default-image

জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করে এ আশায় যে তাঁরা তাদের সমস্যার সমাধান করবেন। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর জনপ্রতিনিধিদের একটি বড় অংশ প্রায়ই জনস্বার্থবিরোধী কাজে জড়িয়ে পড়েন। ত্রাণ বিতরণ, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন অনিয়মে, বিশেষত ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নাম উঠে আসে। তাঁদের অনিয়মে সবচেয়ে বেশি যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁরা গ্রামীণ পর্যায়ের সবচেয়ে দরিদ্র মানুষ।

সেই মানুষদের কঠিন বিপদে ফেলার সর্বশেষ নজির মিলল যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুর ইউনিয়নে। সেখানে ৩৫৫ জন দুস্থ নারীর ভিজিডি কর্মসূচির পাওনা চাল চার মাস ধরে স্রেফ ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দ্বন্দ্বে আটকে আছে। করোনার এ সময় এই নারীদের পাওনা চাল গুদামে পচছে, আর তাঁদের অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে।

হতদরিদ্র এই নারীদের ভিজিডির আওতায় দুই বছর ধরে প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা। করোনাকালে যখন আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে আছে, সে সময়ে যদি তাঁরা তাঁদের চাল পেতেন, তাহলে দুবেলা খেয়ে বাঁচতে পারতেন। কিন্তু ঝামেলা বাধিয়েছেন ইউপির চেয়ারম্যান ও সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীধরপুর ইউপির চেয়ারম্যান ভিজিডির উপকারভোগীদের তালিকা চূড়ান্ত করার পর ইউপির সদস্যরা তালিকাভুক্ত ১০ জনের বিষয়ে আপত্তি তুলেছিলেন। উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করার পর আটজনের ব্যাপারে অভিযোগের সত্যতা পায়। সেই আটজনকে তালিকা থেকে বাদ দিয়ে নতুন আটজনকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় এবং সে অনুযায়ী চেয়ারম্যানকে চালের ডিও (বিতরণ আদেশ) দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও চেয়ারম্যান চাল নিতে পারছেন না, কারণ ইউপির সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে তাঁর কার্যালয় তালাবদ্ধ করে রেখেছেন। চেয়ারম্যান বলছেন, তিনি গুদাম থেকে চাল এনে রাখবেন কোথায়, কারণ কার্যালয় তালাবদ্ধ। তিনি বলছেন, ইউপির সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সমস্যা না মিটলে ভিজিডির চাল তিনি দিতে পারবেন না।

এতে ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়’ ধরনের পরিস্থিতি হয়েছে। এই দুই শ্রেণির সচ্ছল মানুষের দ্বন্দ্বে তাঁদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এ সময়ে চার মাসের চাল একসঙ্গে পেলে এই সাড়ে তিন শতাধিক নারী উপকৃত হতেন। এ বিষয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কর্মকর্তার ভূমিকা রাখা দরকার।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন