বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও মনোযোগের বিষয় হয়ে আছে। লন্ডনভিত্তিক অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক প্রতিবেদনেও বাংলাদেশের শোচনীয় মানবাধিকার দলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংযত এই প্রতিবেদনের কেন্দ্রে ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হত্যা-নির্যাতনের বিষয়। সরকারের উচিত হবে না বাংলাদেশের অধিকাংশ মানবাধিকার সংস্থার পাশাপাশি অ্যামনেস্টির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগকেও একইভাবে উপেক্ষা করা।
অ্যামনেস্টি ২০১৪ সালে গুম, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু এবং ‘ক্রসফায়ার-বন্দুকযুদ্ধের’ ব্যাপকতাকে চিহ্নিত করেছে। বাংলাদেশি সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রও গত বছরের নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতা দমনের পথে ১২৮ জন ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হওয়ার পরিসংখ্যান দিয়েছিল। অ্যামনেস্টি গত বছরে গুমের সংখ্যা ৮০ বলে উল্লেখ করে। প্রথম আলোর গতকাল বুধবারের শীর্ষ প্রতিবেদনে গত ৫১ দিনে ‘বন্দুকযুদ্ধ’ ও অন্যান্য উপায়ে হত্যার সংখ্যা ৪৭ বলে জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের বিচার হচ্ছে নানিশ্চয়ই নাশকতাকারীরা ঘৃণ্য অপরাধী, এদের আটক করে কঠোর বিচারের মুখোমুখি করা জরুরি। কিন্তু আইনের সেই হাতকে পরিষ্কার থাকতে হবে। গোপনে, মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে, গল্প তৈরি করে মানুষের প্রাণ সংহার করা কখনো আইন রক্ষার কৌশল হতে পারে না। অথচ গতকালের প্রথম আলোতেই এক পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য উদ্ধৃত হয়েছে যে ভয়াবহ নাশকতা দমন করতেই কঠোরতম সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। এই কঠোরতম সিদ্ধান্তের সরাসরি শিকার যে সাধারণ মানুষও হচ্ছে, তার কী হবে! অপরাধীরও বিচার পাওয়ার অধিকার আছে।
যে দেশে আইনের শাসন আছে বলে দাবি করা হয়, সে দেশে সাধারণ একজন পুলিশ সদস্য আইনের বলে প্রাপ্ত অস্ত্র ও ক্ষমতার স্বেচ্ছাচারী ব্যবহার করতে পারেন কীভাবে? মানবাধিকার রক্ষারজন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা যদি সন্ত্রাসীদের কায়দায় কাজ করেন, তখন আইন, মানবতা, আস্থা একত্রে বিনাশ হয়। আর এই সময় চিহ্নিত হয় মানবাধিকার দমনের কালো অধ্যায় হিসেবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন