পেট্রলবোমার আগুনে কেবল শরীরই দগ্ধ হয় না, বীভৎস আক্রমণে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানসিক ক্ষতিও হয় বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী-চিকিৎসক সংগঠন মেদসো সঁ ফ্রঁতিয়েখ। ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের ৫৮ শতাংশই মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। যে নরাধমেরা তাঁদের শরীর দগ্ধ করেছে, তাদের সেই আঘাত থেকে তাঁদের মনও রেহাই পায়নি। 
ঢামেকের বার্ন ইউনিটে সেবাদানরত মেদসো সঁ ফ্রঁতিয়েখের চিকিৎসকদের বরাতে রোববারের প্রথম আলো জানাচ্ছে, অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের জখম-পরবর্তী মানসিক দুর্ভোগ বাড়ছে। কেউ কেউ দুঃস্বপ্ন দেখছেন, কেউ বা স্বাভাবিক সংবেদন হারাচ্ছেন। তবে তাঁদের মানসিক সুস্থতার কী পরিমাণ ক্ষতি হচ্ছে, তা নির্ণয়ে দীর্ঘ সময়ের দেখভাল যেমন দরকার, তেমনি দরকার দীর্ঘ মেয়াদে মানসিক চিকিৎসা ও পরিচর্যা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আক্রান্ত ব্যক্তিই নন, তাঁদের স্বজনদেরও এ ব্যাপারে প্রশিক্ষিত করা দরকার। আমরা চাই, যাঁদের শারীরিক ক্ষতি নিবারণ করা যায়নি, তাঁদের মানসিক সুস্থতার সর্বোচ্চ চেষ্টা যাতে করা হয়।
প্রথম আলোর সংবাদ থেকে দেখা যাচ্ছে, কেবল মানসিক বিপর্যয়ই নয়, আকস্মিক দগ্ধ হওয়ার অভিঘাতে কারও কারও মধ্যে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসের মতো মারাত্মক ব্যাধিও দেখা দিচ্ছে। সুতরাং, তাঁদের চিকিৎসাকে সামগ্রিকভাবেই দেখতে হবে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
সরকারের তরফে পেট্রলবোমার শিকারদের চিকিৎসা সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্গীকার করা হলেও এখন পর্যন্ত সবাই তা পাননি। তাঁদের প্রতি সরকারের দায় রয়েছে। সেই দায় থেকেই দীর্ঘ মেয়াদে তাঁদের মানসিক পরিচর্যা ও চিকিৎসা দেওয়ার বন্দোবস্ত করতে হবে। অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের চিকিৎসা, সেবা, পুনর্বাসন এবং পরিচর্যায় যা যা করণীয়, তা নির্ধারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি কমিটি করে দিতে পারে। এই কমিটি সারা দেশের আক্রান্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রণয়ন করে তাঁদের চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবার ব্যবস্থা করবে এবং তার তদারকি করবে। তাঁদের যন্ত্রণার সঙ্গী হওয়ার দায় সবারই।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন