এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। দিনদুপুরে দুই পক্ষ দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ লিপ্ত হলো আর পুলিশ নির্বাক দর্শকের ভূমিকা পালন করল। গতকাল ডেইলি স্টার-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, হেলমেটধারী এক ব্যক্তি আঘাতে ফুটপাতে লুটিয়ে পড়া কুরিয়ার সার্ভিসের কর্মী নাহিদ হোসেনকে দেশি অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছেন। তাঁর পেছনে আরও ছয় হেলমেটধারী দাঁড়িয়ে আছেন। পুলিশ তাঁদের খুঁজে বের করার চেষ্টা না করে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে পাইকারি মামলা দিয়েছে। এর মাধ্যমে তারা সেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বকেই সামনে এনেছে, যা সব সময় ক্ষমতাসীনেরা করে থাকে। পুলিশের দায়িত্ব ছিল আগে ওই হেলমেটধারীদের খুঁজে বের করা। বিএনপির নেতা মকবুল হোসেনের দোকান আছে নিউমার্কেটে। সেটাই যদি তাঁকে মামলার আসামি করার যুক্তি হয়, তাহলে দোকানের মালিক আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধেও মামলা করতে হয়। ঢাকা কলেজের ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির কোন কোন নেতা সেদিন এক দোকান কর্মচারীর পক্ষ নিয়ে মারধর করতে গিয়েছিলেন, তাঁদের নাম প্রথম আলোয় ছাপা হয়েছে। অনেকের ছবি ভাইরাল হয়েছে। তাঁদের কারও বিরুদ্ধে মামলা না হওয়াও রহস্যজনক।

পুলিশ যদি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে গয়রহ মামলা দেয়, তাহলে এই সন্ত্রাসী কাণ্ডের বিচার পাওয়া যাবে না। বিএনপির কেউ অপরাধ করে থাকলে, আওয়ামী লীগের নেতাদের ভাষায় ‘ষড়যন্ত্র’ করে থাকলে, সরকার অবশ্যই তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গয়রহ মামলা করলে প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাবে। সরকারের নীতিনির্ধারকেরা প্রায়ই বলেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তাঁরা প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের নাজেহাল করতে মামলা করে থাকেন।

ব্যবসায়ী ও ছাত্রদের মধ্যে সমঝোতার পর নিউমার্কেট এলাকায় আবার স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে এসেছে। কিন্তু এ সমঝোতা সাময়িক হলে চলবে না। কেন বারবার ছাত্র ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, তারও উৎস খুঁজে বের করতে হবে। আমরা চাই সেদিন যাঁরা সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটিয়েছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হোক, অপরাধীরা শাস্তি পাক। আর সে জন্য হেলমেটধারীদের খুঁজে বের করা দরকার।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন