আমরা গভীরভাবে শোকাহত

ফ্রান্সের নিস শহরে গত বৃহস্পতিবার রাতের নৃশংস ঘটনায় আমরা বিস্ময়ে হতবাক। বাস্তিল দিবসের আনন্দোৎসবে আতশবাজি উপভোগ করছিলেন যে মানুষেরা, তাঁদের ওপর দিয়ে দ্রুত বেগে ট্রাক চালিয়ে দিয়ে নারী-শিশুসহ ৮৪ জন মানুষকে হত্যার ঘটনাটি এককথায় অকল্পনীয় নিষ্ঠুর উন্মত্ততা। এই ঘটনার নিন্দা জানানো কিংবা হত্যাকারী ব্যক্তিটিকে ধিক্কার জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া কঠিন।
যাঁরা এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন, তাঁদের জন্য আমাদের হৃদয় শোকে মুহ্যমান। তাঁদের স্বজনদের জন্য আমাদের গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা। যাঁরা আহত হয়েছেন, তাঁদের জন্য শুভকামনা: তাঁরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন।
যদিও ঘটনার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পরও এর দায় কেউ স্বীকার করেনি, তবু ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ এটাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে অভিহিত করেছেন। আমরা জানি না, এটা সত্যিই কোনো সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর কাজ কি না, তবে বিশ্বের বিভিন্ন অংশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী তৎপরতা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে এটাকে সন্ত্রাসী হামলা বলে অনুমান করার কারণ রয়েছে। খোদ ফ্রান্সেই এর আগে বড় ধরনের দুটি সন্ত্রাসী হামলায় বিপুলসংখ্যক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং ফ্রান্সের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর হুমকিও শোনা গেছে।
তবু এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না যে বৃহস্পতিবারের হামলাটিও বিশ্বজুড়ে চলমান সন্ত্রাসবাদী তৎপরতার অংশ। ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে, তার ফলাফলের ভিত্তিতে ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে এ কথা অবশ্যই বলা যায় যে ধর্মীয় উগ্রপন্থাসহ নানা কারণে পৃথিবীর দেশে দেশে নিষ্ঠুরতার ঘটনা বেড়েছে। নানা ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও বিশ্বাস থেকে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও বিদ্বেষের যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, তা একুশ শতকের সভ্যতার সঙ্গে ভীষণভাবে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। কেননা, বিজ্ঞান-প্রযুক্তিতে প্রাগ্রসর একুশ শতকের প্রারম্ভে আমরা দেখেছিলাম এক সুখী, শান্তিময়, সৌহার্দ্যপূর্ণ সহস্রাব্দের স্বপ্ন।
আমরা আশা করি, ফ্রান্সের এই গণহত্যাযজ্ঞের রহস্য উন্মোচিত হবে, হামলাকারীর পেছনে কোনো গোষ্ঠী থেকে থাকলে তারাও চিহ্নিত হবে এবং তাদের বিচার ও শাস্তি হবে। এই গভীর শোকের মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ ফ্রান্সের জনগণের পাশে আছে।