default-image

গত ২০ মে আম্পান নামে ঘূর্ণিঝড় দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্ত করে দিয়ে গেছে। তারপর দীর্ঘ ছয় মাস পেরিয়ে গেছে, কিন্তু এখনো অনেক মানুষ স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। সাতক্ষীরা থেকে আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো এক সরেজমিন প্রতিবেদন থেকে সেই সব বিপন্ন মানুষের দুর্ভোগের কিছু খণ্ডচিত্র পাওয়া যায়।

যেমন আশাশুনি উপজেলার হাজরাখালী গ্রামের এক বাসিন্দার ভাষ্য, ২০ বিঘা জমিতে তাঁর মাছের ঘের ছিল। তা দিয়ে সাতজনের সংসার ভালোভাবেই চলত। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস আম্পানের আঘাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে তাঁদের পুরো ইউনিয়ন তলিয়ে যায়। ফলে আরও অনেকের মতো তাঁরও মাছের ঘের, ঘরবাড়ি-গৃহস্থালি নদীতে তলিয়ে যায়। আম্পানের পরদিন থেকে তাঁরা পলিথিন দিয়ে খুপরি বানিয়ে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।

বিজ্ঞাপন

রহিম সানা নামের ওই বাসিন্দার উক্তি, ‘ছয় মাস পার হয়ে গেল, এখনো অবস্থার কোনো উন্নতি দেখতেছিনে। বাঁধ বাঁধার কোনো উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।’ ফলে ভীষণ অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে তাঁর পরিবারের মতো আরও অনেক পরিবারের। আশাশুনি ইউনিয়নে কমবেশি এ রকম দুর্দশায় পড়া মোট মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৬ হাজার।

তাঁদের এ দুর্দশার কারণ বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়া। আশাশুনির খোলপেটুয়া নদীর হাজারখালী এলাকায় বাঁধের প্রায় ৮০ মিটার অংশ ভেঙে গিয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সুতরাং এ থেকে তাঁদের উদ্ধার করার একমাত্র উপায় বাঁধের ভাঙা অংশগুলো মেরামত করা। কিন্তু ছয় মাসেও সেই কাজ কেন করা হয়নি, তা বোধগম্য নয়। স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কয়েকবার বাঁধ সংস্কারের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু তা সফল হয়নি। অবশেষে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই বাঁধ সংস্কারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে।

বলা হচ্ছে, লোকালয়ে পানি ঢোকা ঠেকাতে প্রথমে ৩৩৫ মিটার রিং বাঁধ দেওয়া হবে, তারপর মূল ভাঙনকবলিত এলাকার বাঁধের ৮০ মিটার সংস্কার করা হবে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই কাজ শুরু হবে—এ রকম আশ্বাস দেওয়া হয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। আমরা আশা করব, এ আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিপুলসংখ্যক মানুষের মানবেতর জীবনযাপন চলছে দীর্ঘ
ছয় মাস ধরে। এটা যেন আরও প্রলম্বিত না হয়। ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এগুলো এড়ানোর সুযোগ মানুষের নেই। কিন্তু এসব দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের উপায় অবশ্যই মানুষের হাতে আছে। এ জন্যই রয়েছে রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসন, বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠান। দুর্যোগে বিপর্যস্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বার্থে তাদের দ্রুত সক্রিয়তা একান্ত প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন