default-image

গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আরমানিটোলায় হাজি মুসা ম্যানশন নামে একটি ভবনের নিচতলার রাসায়নিক দোকান থেকে আগুন লেগে চারজন মারা গেছেন এবং ২০ জন আহত হয়েছেন।

প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, এ আবাসিক ছয়তলা ভবনের নিচতলায় রাসায়নিক পণ্যের ১৮টি দোকান ছিল। এর কোনো একটি থেকে আগুনের উৎপত্তি ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই সে আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। পেছনের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা জানালা ভেঙে পাশের বাড়িতে আশ্রয় নিতে পারলেও সামনের ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা সে সুযোগ পাননি। ফলে চারজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।

পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডে মানুষের মৃত্যু ও সম্পদহানির ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ২০১০ সালে নিমতলীতে রাসায়নিক দোকান ও গুদামে আগুন লেগে ১২৪ জন নারী-পুরুষ ও শিশু মারা যায়।

সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল অবিলম্বে পুরান ঢাকা থেকে রাসায়নিক পদার্থের সব দোকান ও গুদাম সরিয়ে ফেলা হবে। এ জন্য কমিটি ও টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু গত ১১ বছরেও সেসবের কিছুই করা হয়নি। রাজধানীর ওই এলাকার অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি যে একটুও কমেনি, আরমানিটোলার এ অগ্নিকাণ্ড তার সর্বসাম্প্রতিক প্রমাণ।

বিজ্ঞাপন

এর আগে ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় আগুন লেগে ৭১ জন মানুষ মারা যায়। সেই অগ্নিকাণ্ডের কারণও ছিল দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ, যদিও আগুনের সূত্রপাত ঘটেছিল জ্বালানি গ্যাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণ থেকে। অজস্র রকমের দাহ্য রাসায়নিক পদার্থে ঠাসা অতি মাত্রায় ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা পুরান ঢাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সব সময়ই খুব বেশি। সে জন্য রাসায়নিক পদার্থের ব্যবসা ওই এলাকা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সুপারিশ অনেকবার করা হয়েছে।

পুরান ঢাকার রাসায়নিক পদার্থের ব্যবসায়ীরা বলেন, তাঁরা বহু বছর থেকে পুরোনো ওই এলাকায় এ ব্যবসা করে আসছেন, এটা তাঁদের জন্য সুবিধাজনক। তবে সরকার বিকল্প ব্যবস্থা করে দিলে তাদের সরে যেতে আপত্তি নেই। এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সেখানকার রাসায়নিক পদার্থের ব্যবসার স্থানান্তর ঘটেনি। আরমানিটোলায় আগুন লেগে মানুষ মারা গেছে, এখন আবারও এ নিয়ে কথা উঠবে, কিন্তু সমস্যাটির সমাধান করা হবে, এটা প্রত্যাশা করা কঠিন।

কারণ, পুরান ঢাকায় রাসায়নিক পণ্যের ব্যবসা বৈধ ও অবৈধ উভয়ভাবেই হচ্ছে। বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করার আগে বৈধ ব্যবসায়ীরা সরে যাবেন না, এটা তাঁরা বলতে পারেন। কিন্তু যাঁরা অবৈধভাবে ব্যবসা করছেন, তাঁদের তুলে দিতে তো আইনত সমস্যা নেই। বৃহস্পতিবার যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে, সেখানকার রাসায়নিক পণ্যের ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স নেই। আসলে আইন প্রয়োগে তৎপর হলে পুরান ঢাকার এ সমস্যার অন্তত আংশিক সমাধান করা সম্ভব।

রাসায়নিক পণ্যের ব্যবসার জন্য শ্যামপুর ও টঙ্গীতে অস্থায়ীভাবে রাসায়নিক পল্লি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানা যায়, কিন্তু তার কাজ শেষ হয়নি। দ্রুত কাজ শেষ করে পুরান ঢাকার সব রাসায়নিক পণ্যের ব্যবসা সেখানে স্থানান্তর করার জোরালো তৎপরতা দরকার। কিন্তু অবৈধভাবে যাঁরা এসব দাহ্য পদার্থের ব্যবসা করছেন, তাঁদের দোকান ও গুদামগুলো অবিলম্বে বন্ধ করা হোক।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন