আর্থিক বিবেচনা নয়, শিশুদের বিকাশ অগ্রাধিকার পাক

শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পার্ক, উদ্যান ও খেলার মাঠের মতো উন্মুক্ত স্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাজধানী ঢাকাসহ আমাদের বিভিন্ন শহরে এসব সুবিধা দিন দিন সংকুচিত হচ্ছে। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও মানুষের অর্থলোলুপতার কারণে খেলার মাঠ এখন হাতে গোনা। গ্রামাঞ্চলেও খেলার মাঠের সংখ্যা কমে আসছে। বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে মাঠের অভাবে অধিকাংশ শিশু খেলাধুলার সুযোগ পায় না। তাই বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ থাকার গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু এ দিকটি বরাবরই উপেক্ষিত হয়ে এসেছে।এ উপেক্ষার আরও এক নজির দেখা গেছে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা উচ্চবিদ্যালয়ে। গত বুধবারের প্রথম আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিদ্যালয়টির খেলার মাঠের কিছু অংশ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ইজারা দিয়েছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আশপাশের দশ গ্রামের ছেলেরা এ মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলে। দোকান নির্মিত হলে শিশু-কিশোরেরা খেলাধুলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে, তাদের বিকাশ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে।শিশুদের সামাজিকায়ন ঘটানোর ক্ষেত্রে খেলাধুলার বড় ভূমিকা থাকে। এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত শিশুরা বেড়ে উঠবে একলা, এক ধরনের গৃহবন্দিত্বের মধ্যে। যথাযথ প্রস্তুতি ছাড়াই তারা ঢুকে পড়ছে বড়দের দুনিয়ায়।আমাদের দেশে শিশুদের চিত্তবিনোদনের সুযোগ কম। অথচ অন্য সব মৌলিক চাহিদার মতো এ সুযোগও সবার জন্য অবারিত করা উচিত। অতএব পার্ক, উদ্যান ও খেলার মাঠ সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন উন্মুক্ত স্থান গড়ে তোলা আবশ্যক। খেলার মাঠ সংরক্ষণে আইন আছে, সেই আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে না পারলে সবার ব্যবহারের জায়গাগুলো আর আমাদের থাকবে না। আর উপেক্ষার সময় নেই, এক সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য খেলার মাঠ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতন প্রয়াস দেখতে পাব বলে আশা করি।