মামলার বিবাদী হলেন সাংবাদিক, শিক্ষক, এনজিও ও অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ, ছাত্র, সরকারি ও বেসরকারি কর্মচারী, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, ধর্মীয় নেতাসহ অন্য পেশাজীবীরা। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে। ‘অন্তহীন দুঃস্বপ্ন-বাংলাদেশের ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৮’ নামের এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিঙ্গুইশড প্রফেসর ও সিজিএসের উপদেষ্টা আলী রীয়াজ।

প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে গত শনিবার সিজিএস আয়োজিত ওয়েবিনারে বক্তারা যেসব কথা বলেছেন, তা বিচলিত হওয়ার মতো। একজন বক্তা বলেছেন, এই আইনের কারণে নিবন্ধ লেখার সময় তাঁকে বহু চিন্তা করতে হয়। তিনি বলেন, ‘আমি ফেসবুক ব্যবহার করি না, বেশির ভাগ ই-মেইলের জবাব দিই না। বই লিখতে গেলেও চিন্তা করতে হয়। তাই ভ্রমণকাহিনি লিখি।’ যে সমাজে মানুষ কথা বলতে ভয় পায়, সেই সমাজকে কোনোভাবে গণতান্ত্রিক বলা যায় না। দুঃখের বিষয় এই আইনের বিরুদ্ধে যেভাবে প্রতিবাদ হওয়ার কথা ছিল, সেভাবে প্রতিবাদ হয়নি। ফলে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এমন কিছু ধারা আছে, যা কেবল নাগরিক অধিকার খর্ব করে না, সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের সুযোগও মারাত্মকভাবে সংকুচিত করেছে। আইনটির সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো এর বেশির ভাগ ধারা অজামিনযোগ্য। অর্থাৎ বিচার করার আগেই অভিযুক্তকে শাস্তি দেওয়া। কারাগারে থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পক্ষে মামলা মোকাবিলা করা কিংবা নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করা কঠিন।

গত ২৬ মাসে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ৮৯০টি মামলা হলেও বিচার হয়েছে খুবই কম। যাঁরা মামলা করেছেন, তাঁরাও জানেন এটি প্রমাণ করতে পারবেন না। তাঁদের উদ্দেশ্য বিবাদীকে নাজেহাল করা। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার করা হচ্ছে, এ কথা আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও স্বীকার করেছেন। তিনি একাধিকবার এর অপব্যবহার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে কিছুই করেননি। এভাবে আশ্বাসের মুলা আর কত দিন ঝুলিয়ে রাখবেন? গণবিরোধী আইনে আর কত মামলা হবে, আর কত মানুষ হয়রানির শিকার হবেন?

আমরা এই আইন পুরোপুরি প্রত্যাহারের দাবি জানাই। কেবল তথ্য অধিকার আইন নয়, সংবিধানের সঙ্গেই এই আইন সাংঘর্ষিক। কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের আইন থাকতে পারে না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন