পেট্রলবোমায় ঝরে গেল আরও আটটি প্রাণ। গত শুক্রবার রাতে গাইবান্ধায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলার ফলে সাত যাত্রী দগ্ধ হয়ে মারা গেছেন। বরিশালের গৌরনদীতে মারা গেছেন আরও তিনজন। বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের অবরোধের ৩৩ দিনে মোট নিহতের সংখ্যা হলো ৮০। আহত হয়েছেন এক হাজারের বেশি মানুষ। আর কত মানুষের মৃত্যু হলে এই আত্মবিনাশী সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতির অবসান ঘটবে?
গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ বাংলাদেশের চলমান সহিংসতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশের চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। কিন্তু বিবদমান দুই রাজনৈতিক পক্ষ নিজ নিজ অবস্থানে অটল রয়ে গেছে। বিএনপি ও তার জোট সরকারের পতন না ঘটা পর্যন্ত চলমান অবরোধ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আর সরকার ২০-দলীয় জোটের আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করে বলছে, বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপে বসবে না।
অর্থাৎ জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ উভয় পক্ষই বিসর্জন দিয়েছে। তারা এমন এক লড়াইয়ে লিপ্ত রয়েছে, যে লড়াইয়ে কোনো পক্ষেরই জয়ের সম্ভাবনা নেই। তাদের এই বিধ্বংসী লড়াই চূড়ান্ত অর্থে গোটা জাতির জন্যই আত্মঘাতী।
জাতিসংঘ বলেছে, দুই প্রধান দল যাতে তাদের মতপার্থক্যের অবসান ঘটাতে পারে, তারা সেই চেষ্টা করবে। আমরাও গোড়া থেকে বলে আসছি, দুই দলকে চরম বৈরী অবস্থান ছাড়তে হবে। প্রকৃত গণতান্ত্রিক মানসিকতা নিয়ে সংকট নিরসনের আন্তরিক আগ্রহসহকারে আলোচনায় বসতে হবে। সরকার যদি মনে করে, আইনের কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে এই সংকট থেকে বের হওয়া যাবে, তাহলে সরকার বিরাট ভুল করছে। অন্যদিকে, বিএনপিসহ ২০-দলীয় জোট যদি ভেবে থাকে, সহিংসতার মাধ্যমেই তারা রাজনৈতিকভাবে জয়ী হবে, তাহলে সেটাও বিরাট ভুল। একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই চলমান সংকট থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। উভয় পক্ষের প্রতি আমাদের আহ্বান: বলপ্রয়োগের মাধ্যমে একে অপরকে পরাস্ত করার মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসুন, আলোচনায় বসুন।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন