বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, লাইন ছিদ্র হয়ে সেখান থেকে গ্যাস বেরিয়ে এসে যদি কোনো বদ্ধ জায়গায় জমা হয় এবং তার পরিমাণ বাতাসে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বায়তুস সালাত মসজিদে সেটিই ঘটেছে। নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেছেন, ‘আমরা আগুন নেভানোর জন্য পানি দেওয়ার পর সেখানে বুদ্‌বুদ দেখতে পেয়েছি। এর অর্থ গ্যাস লিকেজ হচ্ছিল। মূলত পাইপটি ছিদ্র হয়ে গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। এদিকে পুরো মসজিদ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত হওয়ায় গ্যাস মসজিদ ঘরের মধ্যেই আটকে ছিল।’ তাঁর ধারণা, মসজিদের কোনো ফ্যান চালানোর সময় সুইচবোর্ড থেকে আগুনের ফুলকি বের হয়ে মসজিদের ভেতরে থাকা ছয়টি শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে (এসি) আগুন ধরেছে।

গ্যাস বিস্ফোরণে আহত ৩৭ জনকে ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা ডা. সামন্ত লাল সেন জানিয়েছেন, বেশির ভাগ রোগীর কমপক্ষে ৩০ শতাংশ পুড়েছে। অনেকের তারও বেশি। বেশির ভাগেরই শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এর অর্থ তাঁরা শঙ্কামুক্ত নন।

সারা দেশে গ্যাসের লাইন আছে ২৪ হাজার ২৮৭ কিলোমিটার। এর মধ্যে বিতরণ ও সার্ভিস লাইন প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার, যার ৭০ শতাংশ ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৮ সালে গ্যাসলাইন বা সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে ৯৫৩টি এবং ২০ জনের মৃত্যু হয়। ২০১৯ সালে দুর্ঘটনা ঘটে ১ হাজারের বেশি। প্রাণহানি হয় ৩৫ জনের। আর চলতি বছরের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৩০ জনের। চলতি বছর নারায়ণগঞ্জে এটাই গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনা প্রথম নয়। গত ফেব্রুয়ারি মাসে সিদ্ধিরগঞ্জে গ্যাসের চুলা বিস্ফোরণে একই পরিবারের আটজন দগ্ধ হন। গত বছর চট্টগ্রামে এক মর্মান্তিক গ্যাস পাইপলাইনের বিস্ফোরণে সাতজন প্রাণ হারান।

তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, লাইন মেরামতের জন্য তারা ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। কিন্তু তারপর কী হয়েছে জানা যায়নি। তাই প্রশ্ন, আর কত মানুষের মৃত্যু হলে তিতাসের লাইন মেরামত করা হবে? কবে কর্তৃপক্ষ সজাগ হবে?

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন, বেসামরিক নিরাপত্তা ও ফায়ার সার্ভিস এবং তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তিনটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করব, নির্ধারিত সময়ে তঁারা তদন্তকাজ শেষ করে প্রতিবেদন জনগণের সামনে তুলে ধরবেন। তদন্ত কমিটি গঠনের দুটি উদ্দেশ্য থাকে। একটি হলো ঘটনা চাপা দেওয়া, আরেকটি সত্য উদ্‌ঘাটন। এখন দেখার বিষয় নারায়ণগঞ্জ মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কী করেন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন