এমন সব সমস্যা উদ্ধারকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী মানুষ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর বাইরে নারীরা যে সমস্যায় পড়েছেন, সেটির তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান আসলেই জটিল। আশ্রয়কেন্দ্রে শৌচাগারের যথেষ্ট সুযোগ না থাকায় নানা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন তঁারা। সুনামগঞ্জের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র গিয়ে প্রথম আলোর সরেজমিন প্রতিবেদনে করুণ পরিস্থিতি উঠে এসেছে।

সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় ছয় শতাধিক আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক লাখ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। সেসব মানুষের বড় একটি অংশ নারী। একেকটি আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েক শ থেকে সহস্রাধিক মানুষের জন্য কয়েকটি শৌচাগার কোনোভাবেই সেখানে যথেষ্ট নয়।

অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে একে তো ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ, আবার চারদিকে থইথই পানি। পুরুষেরা নৌকা নিয়ে দূরে কোথাও গিয়ে অথবা হাঁটুপানিতে হেঁটে অন্য জায়গায় গিয়ে শৌচাগারের প্রয়োজনীয়তা সারতে পারছেন। কিন্তু নারীদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁদের জন্য বিষয়টি হয়ে উঠেছে চরম বিব্রতকর। কোনো কোনো বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শৌচাগার থাকলেও তাতে পানির ব্যবস্থা নেই, অধিক ব্যবহারের চাপে সেখানে যাওয়ার পরিবেশ নেই। নারীরা জানান, বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নেওয়ায় শৌচাগারগুলো এতই নোংরা হয়ে গেছে যে তা নারীদের জন্য ব্যবহার করা কঠিন। এতে তাঁরা স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখেও পড়ছেন। কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, কোনোটিতে শৌচাগার ছিল না, কোনোটিতে শৌচাগার থাকলেও তা পানিতে ডুবে গেছে। কোনোটির পরিবেশ খুবই নোংরা।

বন্যাদুর্গত মানুষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবনগুলো এমনভাবে করা উচিত, যাতে মানুষ আশ্রয় নেওয়ার পর শৌচাগার সুবিধা থাকে। তাদের প্রশ্ন, দোতলা, তিনতলা বিদ্যালয় ভবনের ওপরের তলাগুলোতে কেন শৌচাগার থাকবে না? বন্যাপ্রবণ এলাকায় বিদ্যালয়গুলো তৈরি করা হয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবেও। কিন্তু সেটি নির্মাণের সময় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি কতটা বিবেচনায় রাখা হয়। আমরা আশা করছি, ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তৈরির সময় এটি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হবে—এমন চিন্তা মাথায় রেখেই নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এবারের বন্যা থেকে যেন শৌচাগার বিষয়ে শিক্ষা নেওয়া হয়। আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হোক নারীবান্ধব।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন