বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পাঁচ দফা ইউপি নির্বাচনে এ পর্যন্ত ৯৩ জন নিহত হয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকদের হাতে। সে ক্ষেত্রে অনেক খুনের আসামি খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে। কিন্তু উল্লেখিত পাঁচ প্রার্থীকে টার্গেট করেই খুন করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের স্বজনেরা আসামিদের নাম উল্লেখ করে মামলাও করেছেন। কিন্তু ১৩৬ আসামির মধ্যে ধরা পড়েছেন মাত্র ১০ জন। নিহত ইয়াসিন আলমের বাবা মোজাম্মেল হক খান বলেন, ‘আমি কিছুই বুঝিনে। আমার বেটাক (ছেলে) দিনির আলোত গুলি করে মারছে। আমি আমার বেটা খুনির বিচের চাই।’ নিহত প্রার্থী আবদুল মালেক মালতের ছেলে ফাহিম হাসানের অভিযোগ, ‘প্রকাশ্যে আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। হত্যার দৃশ্য সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছে। তারপরও পুলিশ আসামিদের কেন গ্রেপ্তার করছে না?’ যশোরের সুন্দলী ইউনিয়নের নির্বাচিত সদস্য উত্তম সরকার হত্যায় অর্ধেন্দু নামে যাঁকে আসামি করা হয়েছে, তিনি সামান্য ভোটে তাঁর কাছে হেরেছিলেন। এখানে স্পষ্ট যে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। আবার কোথাও জয়ী পক্ষ পরাজিত প্রার্থীকে হত্যা করেছে।

নির্বাচন নিয়ে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনা নতুন নয়। নতুন হলো নির্বাচনে জয়ী বা বিজয়ী প্রার্থী প্রতিপক্ষের ওপর সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া। নির্বাচনের মূল নিয়ামক শক্তি যে জনগণ, তাদের ওপরই ভরসা রাখেননি এঁরা, ভরসা রেখেছেন পেশিশক্তির ওপর। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। তারা সেই দায়িত্ব পালন করেনি বলেই নির্বাচনে হানাহানির মাত্রা বেড়ে গেছে।

এখানে খুনের শিকার ও খুনের আসামি সবাই ক্ষমতাসীন দলের। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষে মামলা পরিচালনা ও আসামিদের গ্রেপ্তার করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ইউপি নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট বিরোধ প্রার্থী কিংবা তাঁদের সমর্থকদের মধ্যে সীমিত নেই। অধিকাংশ স্থানে স্থানীয় সাংসদ থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতারাও জড়িয়ে পড়েছেন এবং কারও কারও পক্ষ নিয়েছেন। ফলে থানা-পুলিশ কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এ অবস্থায় খুনের বিচার হবে কী করে?

আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাফিলতির কারণে এতগুলো মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে। এখন যদি আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার করতে না দেওয়া হয়, তাহলে হানাহানি আরও বাড়বে। আইনকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন