সোনারগাঁ উপজেলায় বুড়িগঙ্গা নদী ও বশিরগাঁও খালের আশপাশে প্রায় ২৫টি ডাইং কারখানা রয়েছে। পার্শ্ববর্তী আড়াইহাজার উপজেলায় রয়েছে শতাধিক ডাইং কারখানা। এসব শিল্পকারখানার অনেকগুলোরই পরিবেশ ছাড়পত্র নেই। আবার যেসব কারখানার ছাড়পত্র রয়েছে, সেগুলোর বেশির ভাগই বর্জ্য পরিশোধন ঠিকমতো করছে না।

এ ধরনের কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে তরল বর্জ্য পরিশোধনাগারের (ইটিপি) মাধ্যমে বর্জ্য পরিশোধন বাধ্যতামূলক হলেও অধিকাংশ শিল্পমালিক তা মানছেন না। বছরের পর বছর ধরে তাঁরা তাঁদের শিল্পকারখানা থেকে সৃষ্ট ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশ্রিত পানি নদী, খালসহ প্রাকৃতিক জলাশয়ে নিষ্কাশন করে আসছেন। এতে শুধু নদী, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ক্ষতি হচ্ছে না, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাস্থ্যের ওপরও দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে।

এ ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী, জনস্বাস্থ্যের জন্য সর্বনাশা কর্মকাণ্ড শুধু সোনারগাঁয়ে নয়, সারা দেশেই চলছে। এ বিষয়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা পরিবেশ অধিদপ্তর, নদী রক্ষা কমিশনের কার্যকর ভূমিকা একেবারেই চোখে পড়ে না। বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্প চার দশকের বেশি সময় পেরিয়েছে। এ অবস্থায় শিল্পকারখানায় ইটিপি স্থাপন না করা কিংবা সেগুলো ব্যবহার না করার কোনো অজুহাত থাকতে পারে না। পরিবেশ-প্রতিবেশের ক্ষতিসাধন করে কোনো উন্নয়নই টেকসই হয় না।

ইটিপির মাধ্যমে বর্জ্য পরিশোধন ছাড়া কোনো শিল্পকারখানা যাতে নদী, খালের মতো উন্মুক্ত জলাশয়ে ব্যবহৃত পানি নিষ্কাশন করতে না পারে, সে জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরকে কঠোর তদারকি চালাতে হবে। এ বিষয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন