default-image

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের শীতের কষ্ট শুরু হয় নভেম্বর মাসের শেষ দিক থেকে, চলে ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত। এ দীর্ঘ সময়ের মধ্যে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যায় কয়েকবার। যখন শৈত্যপ্রবাহ চলে, তখন জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়ে যায়; বিশেষভাবে কষ্ট পায় শিশু ও বয়স্ক মানুষেরা। যেসব শ্রমজীবী মানুষ খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন, তাঁরা বেশ বিপাকে পড়ে যান। এখন এই মাঘের মাঝামাঝি সময়ে পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সেই পরিস্থিতিই সৃষ্টি হয়েছে। গত পরশু থেকে আবারও শুরু হয়েছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। দিনাজপুরে তাপমাত্রা নেমে গেছে ৮ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

উত্তরের হিমালয় পর্বতমালা থেকে বয়ে আসে হিমশীতল বাতাস, দিনের বেলা কখনো সূর্যের দেখা মেলে, কখনো মেলে না। যখন আকাশে সূর্য থাকে, তখনো রোদের তীব্রতা থাকে না। রাতে বেশ ঘন হয়ে প্রায় বৃষ্টির মতো ঝরে শিশির। অন্তত বেলা ১১টা পর্যন্ত থাকে ঘন কুয়াশা। তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভাষ্য হলো, আকাশের উপরিভাগে কুয়াশা থাকায় রোদের তীব্রতা ছড়াতে পারছে না; সে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের মানুষের পক্ষে এ মাত্রার শীতে অভ্যস্ত হওয়া কঠিন। তাদের বাসস্থান শীত আটকানোর উপযোগী নয়; পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের নিশ্চয়তা নেই বিপুলসংখ্যক মানুষের। শ্রমজীবী মানুষের কাজের পোশাক শীত নিবারণের উপযোগী নয়। তা ছাড়া দারিদ্র্য ও পুষ্টির অভাব যেসব পরিবারে বেশি, শীত তাদের স্বাস্থ্যের প্রতি হুমকি হয়ে আসে। পঞ্চগড় ও দিনাজপুর থেকে আমাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোতে সর্দি–কাশি, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বেড়ে গেছে। বিশেষত শিশু ও বয়স্ক মানুষের মধ্যে এসব রোগের প্রকোপ বেড়ে গেছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, চলমান কোভিড–১৯ মহামারির ওপর এ তীব্র শীতের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। পঞ্চগড় বা দিনাজপুরের কোনো জেলাতেই শৈত্যপ্রবাহের কারণে হঠাৎ করে কোভিড রোগী অনেক বেড়ে গেছে, এমন কোনো খবর আমরা পাইনি। তবে যেহেতু কোভিড–১৯ প্রধান শ্বাসযন্ত্রের অসুখ এবং শীতের সময় শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি হয়, সেহেতু এ বিষয়ে সতর্কতা প্রয়োজন।

প্রাকৃতিক কারণে উত্তরাঞ্চলের শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের মানবিক উপায় রয়েছে। সেটা হলো সরকারি–বেসরকারি উভয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ। প্রথম আলো ট্রাস্টসহ অনেক বেসরকারি সংস্থার এমন উদ্যোগ চলমান আছে; তবে তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন