বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সদর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৩৫০। ছয়-সাত কিলোমিটার দূর থেকে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসে। এ সময় অধিকাংশ শিক্ষার্থীর সম্বল বাইসাইকেল। সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের বর্ষবরণের আয়োজন সাজায় প্রতিষ্ঠানটি। গত বৃহস্পতিবার পয়লা বৈশাখের দিন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় ১৫ কিলোমিটার বাইসাইকেল চালিয়ে এলাকার ১১টি গ্রামে নতুন বছরের বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে। এই বাইসাইকেল শোভাযাত্রা এলাকার মানুষের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলে।

বাংলা নববর্ষকে বরণ করে নিতে ভোর থেকেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে জড়ো হতে থাকে। শিক্ষার্থীরা হাতে ও মুখে নববর্ষের আলপনা আঁকে। নানা ধরনের ফেস্টুন তৈরি করে। আবহমান গ্রামবাংলার বিভিন্ন পেশাজীবী ও ব্যক্তিত্বে নিজেদের সাজিয়ে তোলে শিক্ষার্থীরা। শোভাযাত্রাটি এলাকার গুয়াখোলা, হাতিয়াড়া, বাকলি, মালিয়াট, কমলাপুর, রঘুরামপুর, দোগাছি, ঘোড়ানাছ, বেনাহাটী, বাকড়ি ও কিসমত বাকড়ি গ্রাম প্রদক্ষিণ করে। এ সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ হাত নেড়ে প্রায় ৩৫০ শিক্ষার্থীর এ শোভাযাত্রাকে উৎসাহ দেন।

একসময় পয়লা বৈশাখ মানে ছিল গ্রামগঞ্জের নানা ঐতিহ্যবাহী মেলা। নানা ধরনের খেলাধুলা, ঘোড়দৌড়, নৌকাবাইচকে ঘিরে সেসব মেলা বসত। সেখানে বাচ্চাদের খেলনা ছাড়াও বাহারি তৈজসপত্র বিকিকিনি হতো। সময়ের পরিক্রমায় গ্রামীণ মেলার আমেজ আগের মতো নেই। আধুনিক জীবন ও নাগরিক সংস্কৃতির প্রভাবে পয়লা বৈশাখ পালনে নতুন অনুষঙ্গও যুক্ত হচ্ছে। কতভাবেই না চাইলে উৎসবের বার্তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। নড়াইলের এ বিদ্যালয়ের ভিন্ন রকম শোভাযাত্রা সেটিই প্রমাণ করে। আমরা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন