default-image

গত শনিবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পরবর্তী ধাপে ভর্তির বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। চলমান কোভিড–১৯ মহামারির কারণে পুরো একটি শিক্ষাবর্ষ পেরোতে হয়েছে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানের প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে। একের পর এক পরীক্ষা বাতিল করতে হয়েছে। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করতে হয়েছে পরীক্ষা ছাড়াই। রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে এর কোনো বিকল্প উপায় ছিল না।

পরীক্ষার ঘোষিত ফলাফলে সব শিক্ষার্থীই শিক্ষার পরবর্তী ধাপে উত্তীর্ণ হয়েছেন। একটি অস্বাভাবিকতা অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এর আগের এইচএসসি পরীক্ষার তুলনায় এবার জিপিএ–৫ পেয়েছেন প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলে এত বেশিসংখ্যক শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেতেন না, এটা আগের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায়। কিন্তু এবারের ফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে, তা বিবেচনা করলে জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এ বর্ধিত সংখ্যার যুক্তি মেলে। এবার শিক্ষার্থীদের জেএসসি এবং এসএসসি ও সমমানের বিষয় ম্যাপিংয়ের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হয়েছে। যাঁরা আগের দুটি পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পেয়েছিলেন, এবার তাঁদের প্রায় সবাই তা পেয়েছেন। তবে কিছুটা ব্যতিক্রম ঘটেছে আগের দুই স্তরের পরীক্ষার বিষয়গুলোর সঙ্গে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কিছু বিষয়ের পার্থক্য ঘটে যাওয়ার ফলে। এবার এইচএসসিতে ১৭ হাজার ৪৩ জন শিক্ষার্থী জিপিএ–৫ পেয়েছেন, যাঁরা আগের দুই পরীক্ষায় জিপিএ–৫ পাননি। এটা ঘটেছে পরীক্ষার বিষয় ম্যাপিংয়ের কারণে। এখন এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচীন বলে আমাদের মনে হয় না। পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য শিক্ষার্থীদের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, এটা মনে রেখে আমাদের এ থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।

বিজ্ঞাপন

বরং এখন তাকানো উচিত সামনের দিকে। যে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন, তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির বিষয়টি এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জিপিএ–৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্য যেকোনো বছরের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় এবার ভর্তি পরীক্ষাগুলোয় প্রতিযোগিতা তীব্রতর হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। শিক্ষাক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ফল ভালোই হয়ে থাকে। এ ক্ষেত্রে আশু লক্ষ্য যদিও ভর্তি পরীক্ষায় যথাসম্ভব ভালো ফল করা, তবু সে উদ্দেশ্যেই কঠোর পরিশ্রমসহ মৌলিক বিষয়গুলো ভালোভাবে রপ্ত করলে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পরবর্তী ধাপে তার উপকার নিঃসন্দেহে পাবেন। এবারের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য বেশি দৌড়ঝাঁপ করে সময়ক্ষেপণের প্রয়োজন নেই, কারণ অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নমালা তৈরি হবে এইচএসসি পর্যায়ে পঠিত বিষয়গুলোর ওপরই। সুতরাং, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তিচ্ছু পরীক্ষার্থীরা বাসায় বসে নিজেদের পঠিত বিষয়গুলোই আবারও ভালোভাবে রপ্ত করলে ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফল করার সম্ভাবনা বাড়বে।

কিন্তু এবারের সমস্যা হলো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয় মোট আসন সংখ্যার তুলনায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। ফলে সবাই ভর্তি হতে পারবেন কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে। এ সমস্যার আংশিক সমাধান হতে পারে, যদি জিপিএ–৪ বা তার নিচে স্কোর পেয়ে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো হতাশ না হয়ে কারিগরি শিক্ষার প্রতি ছেলেমেয়েদের উৎসাহিত করতে পারে। কর্মসংস্থানের প্রকট সংকটের এ দেশে এমন অনেক সাধারণ বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি হন, যেগুলোয় উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি নিয়ে বেকার থাকতে হয়। এভাবে এ দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যেই বেকারত্বের হার সর্বাধিক। আমরা আশা করব, শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো বিষয়টি বিবেচনা করবে। এ ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুযোগ তৈরির উদ্যোগ সরকারকে নিতে হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন