প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, সড়কটি বেহাল হওয়ার কারণে ৩০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। উপজেলা ও জেলা শহরে যাতায়াতের জন্য লোকজনকে ১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত রাস্তা ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া–আসা, হাসপাতালে রোগীদের চলাচলে ভোগান্তির শেষ নেই। সড়কটি রানীনগর-আবাদপাকুর থেকে কালীগঞ্জ হয়ে নাটোরের সিংড়ায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের সঙ্গে মিলিত হয়েছে। ২৬টি কালভার্ট ও চারটি সেতু পুনর্নির্মাণসহ সড়কের নির্মাণকাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কার্পেট তুলে কোনো রকমে রোলার দিয়ে ফেলে রাখে দীর্ঘদিন। একপর্যায়ে লোকসানের অজুহাত দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ হঠাৎ বন্ধ করে দেয়।

২০১৮ সালে ২২ কিলোমিটার সড়কটির নির্মাণকাজের জন্য সওজ দরপত্র আহ্বান করে। কাজের দায়িত্ব পায় জেবি কনস্ট্রাকশন নামের এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তাদের টালবাহানার কারণে প্রায় চার বছর পর চলতি বছরের মে মাসে সওজ ঠিকাদারের কার্যাদেশ বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে। একই সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে চার কোটি টাকা জরিমানা করা হয়। পরে ঠিকাদার নতুন দরপত্র আহ্বানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে মামলা করেন। নিজেরা ঠিকঠাকমতো কাজ না করে উল্টো নতুন দরপত্র আহ্বানে বাধা সৃষ্টি করে তারা।

নওগাঁ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী জানাচ্ছেন, আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়ায় দ্রুত ঠিকাদার নিয়োগ করা হবে, সড়কের কাজও শুরু হবে। ঠিকাদার নিয়োগ নিয়ে নানা জটিলতার কারণে প্রকল্পের কাজ এভাবে ঝুলে যায়। শুরুতেই এ ব্যাপারে সতর্ক থাকলে লক্ষাধিক মানুষকে দিনের পর দিন দুর্ভোগের শিকার হতে হতো না। নতুন ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হোক। এত দিন ধরে একটি সড়ক এভাবে পড়ে থাকবে, এর কোনো মানে হয় না।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন