বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, ভবদহ অঞ্চলের ৫২টি বিলের পানি যে কয়েকটি নদীর কারণে ওঠানামা করে, তার সব কটিই নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে নদী দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। বিল উপচে পানি ঢোকে গ্রামগুলোতে। মূলত ভবদহ অঞ্চলের নদীগুলো মূলত জোয়ার-ভাটা দ্বারা প্রভাবিত। সমুদ্রের মতো জোয়ারে পানি বাড়ে, ভাটায় কমে। সে বিবেচনায় পাউবোর বিশেষজ্ঞ কমিটি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট অব ওয়াটার মডেলিং (আইডব্লিউএম) জলাবদ্ধতা নিরসনের পথ হিসেবে নদীগুলো দিয়ে পরিকল্পিত উপায়ে জোয়ার-ভাটা অর্থাৎ টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালুর সুপারিশ করেছিল। আট-নয় বছর আগপর্যন্ত টিআরএম পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো, এতে সুফলও মিলেছিল। কিন্তু পাউবো সেই কার্যক্রম বন্ধ করে এখন অন্য পথে হাঁটছে।

ভবদহে জলাবদ্ধতা দূর করার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হিসেবে টিআরএম বহুভাবে পরীক্ষিত। কিন্তু সেটি বন্ধ করে দিয়ে পাউবো জোর দিচ্ছে সেচযন্ত্র বসিয়ে পানি সেচ এবং নদী খননের ওপর। বর্তমানে প্রায় পাঁচ কোটি টাকায় সেচ প্রকল্প ও নদী খনন চলমান আছে। এখন পাউবো ৪৪ কোটি ৬৬ লাখ টাকার বড় পরিসরে একটি সেচ প্রকল্প নিয়েছে। সেটি এখন প্ল্যানিং কমিশনে পাস হওয়ার অপেক্ষায়। সেখানকার পানিনিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির নেতাদের অভিযোগ, নদী খননের নামে অর্থ লুটপাটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পানি সেচে ভবদহের জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এতে অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই হয়নি।

অন্যদিকে পাউবো মনে করছে, তাদের নেওয়া প্রকল্পই সঠিক। তাহলে আমাদের প্রশ্ন, বিশেষজ্ঞরা কি তাহলে ভুল পরামর্শ দিয়েছিলেন? টিআরএম অনুসরণ করে এর আগে সুফল পাওয়ার ঘটনা কি মিথ্যা ছিল? প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য, ভূমিগত গঠন ও জনগণের দাবি এবং বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে পাউবোর এমন প্রকল্প নিয়ে আমরাও সন্দিহান। এ প্রকল্প পাস হওয়ার আগে বিষয়গুলো বিবেচনা করা হোক। বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ ও পূর্ব অভিজ্ঞতা অনুসারে ভবদহের জলাবদ্ধতা সমস্যা অবিলম্বে নিরসন করা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন