বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উন্নত দেশগুলোতে সব নাগরিকই স্বাস্থ্যবিমার আওতাধীন। কিন্তু আমাদের এখানে বিমা সম্পর্কে একধরনের নেতিবাচক ধারণা আছে। এ কারণে গত কয়েক বছরে বিমা কোম্পানির সংখ্যা অনেক বাড়লেও গ্রাহকসংখ্যা সেই তুলনায় বাড়েনি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সমাজের সবচেয়ে সচেতন অংশ। তাঁদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনা গেলে পরিবার ও সমাজে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী চিকিৎসাসেবা নেওয়া থেকে বিরত থাকেন। স্বাস্থ্যবিমা চালু হলে তাঁদের সেই চিন্তা করতে হবে না। সামান্য প্রিমিয়াম দিয়ে তাঁরা চিকিৎসাসেবা পাবেন।

আমাদের সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ক ধারায় অন্ন, বস্ত্র, আশ্রয়, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ জীবনধারণের মৌলিক উপকরণ নিশ্চিত করার কথা আছে। কিন্তু দেশের গরিষ্ঠসংখ্যক মানুষ এখনো এসব মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। সেই সঙ্গে এ সতর্কবার্তাও জানাতে চাই, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে এবং সংশ্লিষ্টদের গাফিলতির কারণে আমাদের দেশে অনেক ভালো উদ্যোগই ভেস্তে যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্রেও যাতে সে রকম কিছু না হয়, সে জন্য কর্তৃপক্ষকে সজাগ থাকতে হবে। বিশেষ করে যমুনা লাইফ ইনস্যুরেন্সে নামে যে বিমা কোম্পানি এ দায়িত্ব পেয়েছে, পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে তারা যেন যথাযথ সেবা নিশ্চিত করতে পারে, সেদিকে তাদের খেয়াল রাখতে হবে। প্রয়োজনে সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যাতে অনলাইনে কাগজপত্র জমাসহ তাঁদের দাবি পেশ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া কিছু হাসপাতালের সঙ্গে তাঁরা চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিমার কাগজপত্র দেখিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে পারবেন। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরা যাতে বিড়ম্বনা ও সময়ক্ষেপণের শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ উদ্যোগ সফল হলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও এগিয়ে আসবে আশা করি। সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আনতে পারলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যসেবার যেমন প্রসার ঘটবে, তেমনি বিমা সম্পর্কে মানুষের যে ভুল ধারণা আছে, তা-ও কেটে যাবে। টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রায় যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার কথা বলা হয়েছে, স্বাস্থ্যবিমার ক্ষেত্র প্রসারিত করতে না পারলে তা সুদূরপরাহতই থেকে যাবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন