ষাটগম্বুজ মসজিদসহ পুরো বাগেরহাট শহরকেই ১৯৮৩ সালে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে ইউনেসকো। কিন্তু ৩৯ বছরেও সেখানকার ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণে কার্যকর কোনো ভূমিকা নেয়নি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। শুধু বাগেরহাটের ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, সারা দেশের অনেক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের ক্ষেত্রে একই অভিযোগ পাওয়া যায়।

কোনো জাতির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনার গুরুত্ব অপরিসীম। জাতির ভবিষ্যৎ বিনির্মাণের জন্যই ইতিহাসকে জানাবোঝা জরুরি। অথচ রাষ্ট্রীয় থেকে ব্যক্তি—সব পর্যায়েই এগুলো সংরক্ষণ আর রক্ষণাবেক্ষণে অনীহা দেখা যায়। অযত্ন, অবহেলা কিংবা যথেচ্ছ ব্যবহারে সেগুলো নষ্ট হয়। ঐতিহাসিক এসব নিদর্শন হারিয়ে যাওয়া মানে ইতিহাসের একটা সময়কাল চিরতরে হারিয়ে যাওয়া।

সম্প্রতি বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলী বাগেরহাটের প্রাচীন স্থাপনাগুলো নিয়ে বলেছেন, ‘কিছুতেই এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা নষ্ট করতে দেওয়া যাবে না। এ বিষয়ে আমাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ আমরাও মনে করি, বাগেরহাটসহ বাংলাদেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে এ প্রতিশ্রুতি সরকার রক্ষা করবে। কিন্তু ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার পর এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও সেগুলো সংরক্ষণে যখন কার্যকর কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয় না, তখন এ বিষয়ে নীতিনির্ধারকেরা কতটা গুরুত্ব দিচ্ছেন, সে প্রশ্নটি সামনে চলে আসে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণে বাগেরহাটের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। আমরা আশা করব, প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর অমূল্য এসব নিদর্শন সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণে উদ্যোগী হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন