বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, প্যারাবনের কয়েক শ একরের জলাভূমি ইতিমধ্যে দখল হয়ে গেছে। ধ্বংস হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য। অপকর্ম লুকাতে কাটা গাছের গোড়ালি ঢেকে দেওয়া হচ্ছে ট্রাকে ট্রাকে মাটি ও বালু ফেলে। অথচ বাঁকখালী নদীর দখলদারদের উচ্ছেদ, দখল বন্ধ, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেই নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েই টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে এ দখলবাজি চালানো হলো প্রশাসনের কোনো বাধা ছাড়া। দখলদারদের কেউ কেউ প্যারাবনের জমিকে ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছেন। সেসব জমি মানুষকে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তঁারা।

বদরমোকাম হয়ে খুরুশকুল পর্যন্ত সংযোগ সেতু নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর থেকে মূলত নদী দখল শুরু হয়। নির্মাণাধীন সেতুর দুপাশে চলছে প্যারাবন উজাড় করে নদী দখল। নদীর গতিপথ সংকুচিত করে গড়ে তোলা হচ্ছে স্থাপনা। এসব নিয়ে দখলদারদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতও চলছে। সেখানকার প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক জানালেন, থানার এক কিলোমিটারের মধ্যে প্যারাবন দখলের এ ঘটনা ঘটেছে। সেসব জমি ব্যক্তিগত হিসেবে দেখানোর ভুয়া দলিলপত্রও সংগ্রহ করেছেন দখলদারেরা। এ দখলবাজিতে স্থানীয় থানা ও ভূমি অফিসের মদদ ছিল বলে অভিযোগ আছে। এটিও বলার অপেক্ষা রাখে না, ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রতিনিধিদের সমর্থন ও অংশগ্রহণ ছাড়া এত বিপুল অর্থের কারবারও অসম্ভব।

প্লাবন থেকে শহরবাসীকে রক্ষার জন্য জাপানি একটি পরিবেশবাদী সংস্থা বাঁকখালী নদীর তীরে গাছ লাগিয়ে এ প্যারাবন তৈরি করে। কয়েক বছরের মধ্যে প্রশাসন ও পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীরা মিলে সেই বনকে অস্তিত্বহীনতার মুখে ফেলে দিয়েছেন, সেই সঙ্গে শহরকেও। এবারের জলবায়ু সম্মেলনে বন রক্ষায় বাংলাদেশ যে সম্মতি দিয়েছে, তার মুখ রক্ষা করতে পারবে কি সরকার? আমরা দেখতে চাই পরিবেশ অধিদপ্তর, ভূমি অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন