বিপজ্জনক ভাঙনের স্থায়ী সমাধান হোক

কক্সবাজার সৈকত

বিজ্ঞাপন

বিপজ্জনক ভাঙনের কারণে বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের একমাত্র নিরাপদ গোসলের জায়গা লাবণী পয়েন্টে কেউ যেতে পারছেন না। গত বছর বালুভর্তি জিও টিউব (বিশেষ বাঁধ) দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু লোনাপানিতে জিও টিউব ছিঁড়ে যাওয়ায় এ বছর লোনাপানি প্রতিরোধক ৮ ফুট উচ্চতার জিওটেক্স (বালুভর্তি বিশেষ বাঁধ) দিয়ে ৪৩০ মিটার ভাঙা অংশের সংস্কার করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগ খুবই সাময়িক, এতে ভাঙন রোধ হবে না। তাই এর দীর্ঘস্থায়ী সমাধান অত্যন্ত জরুরি।

কক্সবাজারে এখন অনেক কর্তৃপক্ষ। নানা রকম আলাপ-আলোচনার পর সমুদ্রসৈকতের ভাঙন ঠেকানোর দায়িত্ব এসেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওপর। এর আগে কক্সবাজার পৌরসভা, বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি, জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি কর্তৃপক্ষ এটি দেখভাল করত। সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। এত কর্তৃপক্ষ থাকার পরও কক্সবাজারের অবস্থা নানা কারণে শ্রীহীন ও বিপর্যস্ত।

এ সমুদ্রসৈকত রক্ষা ও এর সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সম্প্রতি কারিগরি সমীক্ষা শেষ হয়েছে। সমীক্ষার আলোকে দুই ধরনের কাজ হবে। একটি ভাঙন ঠেকাতে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে প্রতিরক্ষামূলক কাজ। অন্যটি সমুদ্রসৈকতের পরিবেশ ও পর্যটনকে কেন্দ্র করে ৯ কিলোমিটারজুড়ে বহুমুখী কর্মযজ্ঞ। এসবের জন্য গৃহীত প্রকল্পের খরচ প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা, প্রকল্পের মেয়াদ চার বছর। উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) তৈরি হয়েছে, তা এখন জমা দেওয়ার অপেক্ষায়। পরে তা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদিত হবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

জাতীয় স্বার্থে এ প্রকল্প বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে পর্যটন, প্রকৃতি–পরিবেশ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির বিষয়টি জড়িত। কম গুরুত্বপূর্ণ বা কিছু সময় পর করলেও চলে, এমন প্রকল্প স্থগিত রেখে এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা উচিত।

করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় পাঁচ মাস পর সমুদ্রসৈকতে পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে। লাবণী পয়েন্ট পর্যটকদের আকর্ষণ করার মূল কারণ সেখানে গোসল করা যায়। কিন্তু সেখানে বর্তমান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই পর্যটকেরা চলে যাচ্ছেন দক্ষিণ দিকের সিগাল, সুগন্ধা ও কলাতলী পয়েন্টের দিকে।

জোয়ারের ধাক্কায় লাবণী, শৈবাল ও ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্টের চারটি অংশে ভাঙন হয়েছে। গত ৩০ বছরে এত বড় ভাঙন হয়নি, ভাঙন দ্রুত বাড়ছে। কয়েক বছর ধরে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস ও জোয়ারের ধাক্কায় সৈকত বিলীন হচ্ছে। উপড়ে পড়ছে উপকূল রক্ষার হাজার হাজার ঝাউগাছ।

তাই প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এর বাস্তবায়ন শুরু করা উচিত। আমাদের প্রিয় সমুদ্রসৈকতটি টিকিয়ে রাখা নির্ভর করছে প্রকল্পটি শেষ হওয়ার ওপর।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন