বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিআইডব্লিউটিএর তথ্যানুযায়ী, ঢাকা শহরের চারদিকে বৃত্তাকার নৌপথে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, টঙ্গী খাল, বালু, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী নদ-নদীর ওপর ২৫টি সড়কসেতু ও ৩টি রেলসেতু রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি সেতুরই উচ্চতা কম। সেতুগুলো নির্মাণ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ), রেলওয়ে, রাজউক এবং এলজিইডি। সারা দেশের নৌপথগুলোকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে বিআইডব্লিউটিএ। সওজ ২০১০ সালে টঙ্গী খালের ওপর পুরোনো কামারপাড়া সেতুর পাশে নতুন সেতু তৈরির কাজ শুরু করে। এর উচ্চতা নিয়ে আপত্তি জানায় বিআইডব্লিউটিএ। গত বছরের জুলাইয়ে এ নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠকে সেতুর উচ্চতা বাড়াতে এবং মাঝখানে স্টিলের স্প্যান বসাতে রাজি হয় সওজ। তবে স্টিলের স্প্যান বসালেও প্রতিশ্রুত উচ্চতা না রেখেই সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করেছে তারা। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নির্দেশে সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ৯৯টি সেতুর উচ্চতা মাপে বিআইডব্লিউটিএ। তাতে ৮৩টি সেতুর উচ্চতাই নৌপথের শ্রেণি অনুযায়ী কম পাওয়া গেছে। তখন সেতুর কম উচ্চতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলগুলোতে আলোচনা হয় এবং গত ২৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে একনেকের বৈঠকেও বিষয়টি ওঠে। তিনি সারা দেশে উচ্চতা ঠিক রেখে সেতু বানাতে নির্দেশ দেন।

সব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীকেই–বা নির্দেশ দিতে হবে কেন? সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে সওজ ও এলজিইডির দায়িত্বহীনতাই প্রকাশ পেয়েছে। নদী বা খালের ওপর এমনভাবে সেতু নির্মাণ করতে পারেন না, যাতে নৌযান চলাচল বিঘ্নিত হয়। প্রথম আলোর খবরে আরও বেরিয়ে এসেছে যে এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে যে কেবল সমন্বয়হীনতা আছে তা–ই নয়, একে অপরের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জও করছে। বিআইডব্লিউটিএ কামারপাড়া সেতুর উচ্চতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর সওজ উল্টো তাদের পরিমাপকাঠামো নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। কিন্তু যেখানে সেতুর জন্য নৌযান চলাচল করতে পারছে না, সেখানে তাঁরা কী ব্যাখ্যা দেবেন। এলজিইডির একজন প্রকৌশলী বলেছেন, সড়কপথের সেতু উঁচু করেও লাভ হবে না, যদি রেলওয়ের সেতু উঁচু না করা হয়। একই কথা রেল বিভাগও বলতে পারে। এ বিতর্ক অর্থহীন।

অবিলম্বে নৌচলাচলের বাধা হিসেবে চিহ্নিত সেতুগুলোর উচ্চতা বাড়িয়ে নৌপথ সচল করা হোক। সেই সঙ্গে যাদের স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা ও গাফিলতির কারণে এসব অনুচ্চ সেতু তৈরি হয়েছে, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। জনগণের অর্থের এ অপচয় রোধ করতেই হবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন