default-image

বেগম রোকেয়ার জন্মভূমি পায়রাবন্দ গ্রাম থেকে তিন কিলোমিটার দূরে যে শালমারা নদী, সেখানে এখন কলাগাছের ভেলায় করে মানুষ পারাপার হচ্ছে। তাহলে আমরা কতটা এগোলাম?

স্থানীয় সরকার বিভাগ আছে, ইউনিয়ন পরিষদ আছে, জেলা পরিষদ আছে। এত কিছু থাকার পরও কারও দৃষ্টি পড়েনি পায়রাবন্দের শিঙিকুড়া এলাকার প্রতি।

বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর রংপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দে শিঙিকুড়া এলাকায় শালমারা নদীর ওপর সাঁকো ভেঙে গেছে প্রায় দুই মাস আগে। সাঁকোটি মেরামত না হওয়ায় কলাগাছের ভেলায় করে এলাকার লোকজনকে নদী পার হতে হচ্ছে। এতে আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

সরকারের কাছে অনেক আবেদন করার পরও যখন সাড়া পাওয়া যায়নি, তখন এলাকাবাসী উদ্যোগ নিয়ে ২০ থেকে ২২ বছর আগে শিঙিকুড়া এলাকায় শালমারা নদীর ওপর কাঠ, বাঁশ ও লোহার পাত দিয়ে সাঁকো নির্মাণ করেন। প্রতিবছর সাঁকো মেরামতের অর্থও তাঁরা জোগান দিতেন। গত ২৬ সেপ্টেম্বর রংপুরে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ায় সাঁকোটি ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে নদী পারাপারের মাধ্যম হয়ে উঠেছে কলাগাছের ভেলা। পায়রাবন্দ ইউনিয়নের জয়রামপুর, শালাইপুর, বাড়াইপাড়া, তেলিপাড়া, জাফরপুর, শিঙিকুড়া, লতিবপুর ও বিরাহিমপুর গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ঝুঁকিপূর্ণভাবে নদী পারাপার হচ্ছেন। অনেকে পায়রাবন্দ দিয়ে প্রায় সাত কিলোমিটার পথ ঘুরে উপজেলা বন্দরে যাচ্ছেন।

দুই পাড়ের দূরত্ব প্রায় ৬০ ফুট। সোয়া দুই লাখ কোটি টাকার উন্নয়ন বাজেটেও শালমারা নদীর ওপর পাকা সেতু নির্মাণের বরাদ্দ হয় না। আমাদের উন্নয়ন যে জনমুখী না হয়ে আকাশমুখী হচ্ছে, তা সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প দেখেই বোঝা যায়। যে পথ দিয়ে প্রতিদিন আটটি গ্রামের মানুষ পারাপার হন, সেখানে তাঁদের ভরসা কলাগাছের ভেলা বা সাঁকো।

উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন বলেছেন, সেখানে একটি পাকা সেতু নির্মাণের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এত দিনেও এ রকম গুরুত্বপূর্ণ সড়কে কেন পাকা সেতু হলো না? স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এলাকাবাসীকে আশার ছলনে ভুলিয়ে রাখছেন। অনেক স্থানে দেখা যায়, প্রয়োজন না থাকলেও সড়ক-সেতু নির্মাণ করে জনগণের অর্থের অপচয় করা হয়। আর এখানে প্রয়োজন সত্ত্বেও একটি সেতু নির্মাণ করা হলো না।

এ অবস্থার অবসান ঘটুক। অবিলম্বে শালমারা নদীতে পাকা সেতু নির্মাণ করা হোক।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0