default-image

যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দক্ষিণাঞ্চলে শস্য ও সবজি চাষ কঠিন হয়ে পড়েছে, সেখানে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামে ‘সবজি বিপ্লব’ আশা জাগায়। ইউটিউবে দেখে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে গ্রিনহাউসের আদলে বাঁশ-স্টিলের কাঠামো তৈরি করে তার ওপর প্লাস্টিকের স্বচ্ছ আবরণ দিয়ে সবজি চাষ শুরু করেন কুমিরমারা গ্রামের মো. জাকির। তাঁর দেখাদেখি অন্য কৃষকেরাও এগিয়ে আসেন। সেখানে বোম্বাই মরিচ, টমেটো, কাঁচা মরিচ, গাজর, লালশাক, বাটিশাক, পালংশাক ও ধানের আবাদ করেন তাঁরা।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুল মান্নান বলেন, নীলগঞ্জের ১৫টি গ্রামে দেশি সবজি ছাড়াও রেড বিট, ব্রকলিসহ লবণসহনশীল আলুর জাত ‘মেট্রো’ আবাদ হচ্ছে। প্রতিবছর প্রায় ১০ হাজার ২৮৫ মেট্রিক টন সবজি উৎপাদন হচ্ছে, যার আর্থিক মূল্য ১৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বর্তমান ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের দুই শতাধিক পরিবার সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছে। আগে যাঁরা জীবিকার সন্ধানে শহরে যেতেন, তঁারাও গ্রামে ফিরে সবজি চাষ করছেন।

উপকূলীয় নদী আন্ধারমানিকের শাখানদী ও খালে লবণাক্ততার কারণে নীলগঞ্জে ফসল মার খেত। ২০০৫ সালে স্থানীয় কৃষকেরা মিঠাপানি ধরে রাখার জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে খালে পাঁচটি অস্থায়ী বাঁধ দেন। এসব বাঁধ দিয়ে মিঠাপানি সংরক্ষণের ফলে মাঠের ফসল উৎপাদন অনেক বেড়ে যায়। এতে কোনো রাসায়নিক সার দেওয়া হয় না বলে এ সবজি বিষমুক্ত।

বিজ্ঞাপন

এখানকার কৃষকেরা কেবল সবজি উৎপাদন করেই বসে থাকেননি। তাঁরা উৎপাদিত পণ্যের দাম পাওয়ার জন্য পাখিমারা বাজারে একটি বিপণনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘কালেকশন পয়েন্ট’। এ কেন্দ্র থেকে পাইকারেরা সবজি কিনে দূরদূরান্তে নিয়ে যান। সমস্যা হলো একটি বিপণনকেন্দ্রে ১৫ গ্রামের কৃষকদের সবজির সংকুলান হয় না। তাই স্থানীয় কৃষকেরা তাঁদের উৎপন্ন সবজি যাতে দ্রুত বিক্রি করতে পারেন, সে জন্য বাজারে আরও বেশি বিপণনকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। সবচেয়ে ভালো হয় খেতেই সবজি বিক্রির ব্যবস্থা করতে পারলে। এ ক্ষেত্রে কৃষি সম্প্রসারণ কেন্দ্র সহায়তা করতে পারে।

কলাপাড়ার নীলগঞ্জের মতো অন্যান্য স্থানের কৃষকেরাও বারোমাসি সবজি চাষ করুন। তাতে শুধু দেশের মানুষেরই চাহিদা পূরণ হবে না, বিদেশেও আমরা বেশি বেশি সবজি রপ্তানি করতে পারব।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন