বিজ্ঞাপন

তারপর ১০০ বছর তো দূরের কথা, ১০ বছরও অটুট থাকেনি সেই বাঁধ, ভাঙনে ধসে গেছে অনেক জায়গার ব্লক। তাই নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যেই হাতে নিতে হয় আরেকটি প্রকল্প। পাঁচটি প্যাকেজে দেড় কিলোমিটার তীর মেরামতের জন্য ব্যয় ধরা হয় ৭২ কোটি টাকা। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া কাজ চলতি মাসে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এর মধ্যেই সংস্কার করা অংশে ধস দেখা দিয়েছে। ঈদের আগে এক দিনের সামান্য বৃষ্টিতেই গোদারবাজারের পূর্ব দিকে বাঁধের অন্তত ২০ মিটার জায়গার ব্লক ধসে গেছে। স্থানীয় অধিবাসীদের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টিপাত তেমন একটা হয়নি, এক দিনের বৃষ্টিপাতেই যখন এই অবস্থা, তাহলে বর্ষাকালে ঝুম বৃষ্টি হলে অবস্থাটা কী হবে?

কাজটির তদারককারী কর্মকর্তা পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান অবশ্য দাবি করছেন, ব্লকের নিচ দিয়ে ইটভাটার পানি নিষ্কাশন পাইপ থাকাতেই এমনটা হয়েছে। বৃষ্টিতে ইটভাটায় পানি জমে ছিল। পরে পাইপ দিয়ে পানি যাওয়ার ফলে এই অবস্থা হয়েছে। রাজবাড়ী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল আহাদও বিষয়টাকে ‘মাইনর ব্যাপার’ বলে আখ্যায়িত করেছেন।

আমাদের প্রশ্ন, এই ধরনের পাইপ রেখে ব্লক ফেলার তাহলে কী মানে? এই রকম চোরা বিপদ কি অন্যান্য জায়গাতেও রয়ে গেছে? এই ধরনের খুঁত রেখে দেওয়ার ফলে কাজ শেষ হওয়ার আগেই যে মেরামতিতে ভাঙন শুরু হয়ে যায়, ৭২ কোটি টাকা খরচ করে সেই সংস্কারের প্রকৃত স্থায়িত্বকাল আসলে কত দিন? কিছুদিন পরপর মেরামতির এই অনন্ত চক্র কি চলতেই থাকবে?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন