বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়ার আসলে কেউ নেই। দায়ও কারও নেই। যদি থাকত, তবে কারখানায় আগুন লাগার ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে ঘটত না। এ বছরের ৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের হাসেম ফুডস কারখানায় আগুন লেগে অর্ধশতাধিক শ্রমিকের মৃত্যুর পরও তদন্ত সূত্রে এটা নিশ্চিত হওয়া গিয়েছিল যে সেখানে অগ্নিনির্বাপণের যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না, শ্রমিকেরা কাজ করতেন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে। এমনকি এ ভয়াবহ ঘটনার কিছুদিন আগে সেখানে আগুন লাগার পরও হাসেম ফুডস কর্তৃপক্ষ সতর্ক হয়নি। এরও অনেক আগে ২০১২ সালে আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে।

আর এবারের রোমানা রাবার জুতার কারখানার এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রে পুরান ঢাকা একই ধরনের কিছু ভয়াবহ দুর্ঘটনার কথা আমরা স্মরণ করতে পারি। এ বছরের ২২ এপ্রিল আরমানিটোলায় আবাসিক ভবনের নিচতলায় রাসায়নিকের গুদামে আগুন লেগে চারজন, ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে চকবাজারের চুড়িহাট্টায় অগ্নিকাণ্ডে ৭০ জন এবং ২০১০ সালের ৩ জুন ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক গুদামে আগুন লেগে ১২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

দেখা যাচ্ছে ভয়াবহ কিছু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও প্রাণহানির পরও সামগ্রিকভাবে কারখানার নিরাপত্তা বা পুরান ঢাকার রাসায়নিক মজুত ও সেখানে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা কারখানাগুলোর ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এবং হচ্ছে না। পুরান ঢাকাসহ দেশের সর্বত্র রোমানা রাবার জুতার কারখানার মতো অসংখ্য কারখানা ন্যূনতম নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই চলছে। কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ও শ্রমিকের মৃত্যুর তালিকায় সামনে যেকোনো সময় আরও নতুন নাম ও সংখ্যা যুক্ত হলে অবাক হওয়ার কিছু আছে কি?

দেশে শ্রম আইন, শ্রম আদালত, ইমারত নির্মাণ বিধিমালা, অগ্নিনির্বাপণ বিধিমালা, কারখানা পরিদর্শক—নানা কিছুই আছে। কিন্তু এ ধরনের প্রতিটি ‘দুর্ঘটনার’ ক্ষেত্রে দেখা গেছে এসব কিছুই কাজ করেনি। যে কারণে এসব ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। প্রতিটি এমন ঘটনার পর সম্পাদকীয় লিখে আমরা সংশ্লিষ্ট সব মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাদের টনক নড়ছে না। এভাবেই কি তবে চলবে? শ্রমিকেরা পুড়ে মরতেই থাকবেন?

আশা না হারিয়ে আমরা আবারও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। পুরান ঢাকাসহ দেশের ঝুঁকিপূর্ণ কারখানাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলোকে প্রয়োজনীয় নিয়মকানুন মানতে বাধ্য করতে হবে। আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কাদের গাফিলতির কারণে রোমানা রাবারের মতো এমন ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা কীভাবে চলল, তাদের খুঁজে বের করতে হবে। এ আগুন লাগার ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করুন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন