বিজ্ঞাপন

পরে রাত ১২টার দিকে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা মামলায় ১৯২৩ সালের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩ ও ৫ এবং দণ্ডবিধির ৩৭৯ ও ৪১১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। গতকাল তাঁর আইনজীবীরা আদালতে শুনানিতে বলেন, মামলায় ঘটনাস্থল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি কক্ষ, তা উন্মুক্ত কোনো স্থান নয়। ধারা দুটি সাংঘর্ষিক। এতে প্রতীয়মান হয় যে মামলাটি সাজানো। রোজিনা ইসলাম আক্রোশের শিকার হয়েছেন। মামলায় যে আলামত জব্দ দেখানো হয়েছে, তা রোজিনা ইসলামের কাছ থেকে উদ্ধার করা নয়। আইনজীবীরা আরও বলেছেন, রোজিনা ইসলাম একজন পেশাদার নারী সাংবাদিক, তঁার শিশুসন্তান রয়েছে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তাই জামিন পেতে পারেন। আদালত রিমান্ডের যৌক্তিক উপাদান না থাকায় রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। আগামী বৃহস্পতিবার জামিন বিষয়ে অধিকতর শুনানির জন্য রেখেছেন।

রোজিনা ইসলামকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রাখা, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বাংলাদেশের সাংবাদিক সমাজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সম্পাদক পরিষদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের পাশাপাশি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠন প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশের বিশিষ্ট নাগরিকেরাও এই প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। প্রতিবাদ এসেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও। নিউইয়র্কভিত্তিক সাংবাদিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে), অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তাঁর মুক্তি দাবি করে বিবৃতি দিয়েছে। সচিবালয় সাংবাদিক ফোরাম মঙ্গলবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রেস ব্রিফিং বর্জন করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, রোজিনা ইসলাম বাংলাদেশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় নিজের আসন পাকা করে নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা পদকে খাদসহ তাঁর বহু প্রতিবেদন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। সাম্প্রতিক কালে প্রথম আলোয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে রোজিনা ইসলামের বেশ কিছু আলোচিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপা হয়। এসব প্রতিবেদন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মুখোশ উন্মোচন করেছে। স্বার্থে আঘাত লাগা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা তাঁকে সচিবালয়ে হেনস্তা করার পাশাপাশি বানোয়াট অভিযোগ এনে তঁার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা করেছেন—এমন বিশ্বাসের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

রোজিনা ইসলামের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে দেশের ভেতরে ও বাইরে যে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ হয়েছে, তা আশাবাদী হওয়ার মতো। দেশের সাংবাদিক সমাজ যেভাবে রোজিনার পাশে দাঁড়িয়েছেন এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, এ জন্য আমরা অভিনন্দন জানাই। সাংবাদিকতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সংবাদমাধ্যমকর্মীদের এ ধরনের অবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো আঘাত এলে আমাদের সবার দায়িত্ব হবে সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে দাঁড়ানো।

আমরা অবিলম্বে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁর মুক্তি দাবি করছি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন