বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, গ্রামীণ সড়ক সংরক্ষণ প্রকল্পে বাগুলাট ইউনিয়নের আদাবাড়িয়া এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। আট লক্ষাধিক টাকা চুক্তিমূল্যে কুষ্টিয়া শহরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আসিফ এন্টারপ্রাইজ কার্যাদেশ পায়। ২০২০ সালের নভেম্বরে শুরু হয়ে একই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু পুরোনো কালভার্ট ভাঙার পর কাজ আর শুরুই হয়নি। ঠিকাদারের লোকজনও হাওয়া হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে সড়কে চলাচলকারী লোকজন। ভাঙা অংশে কোনো প্রতিরোধব্যবস্থা বা চিহ্ন নেই। চলাচলের জন্য বিকল্প রাস্তাও নির্মাণ করেননি ঠিকাদার।

সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে নির্মাণসামগ্রী। পাকা সড়কের মধ্যে কালভার্ট নির্মাণের জন্য গর্ত খোঁড়া হয়েছে। সেখানে পানি জমে আছে। স্থানীয় লোকজন সড়কের পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দিয়েছেন। তার ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে মানুষ। উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষ এ সড়ক দিয়ে কুষ্টিয়া শহরে যাতায়াত করে থাকেন। রাতে অপরিচিত লোকজন চলাচলের সময় গর্তে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বেশি। গত ১০ মাসে ৫০টির বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে এ ভাঙা কালভার্টে। এখন পর্যন্ত দুজন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন অনেকে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী ও ঠিকাদারের দায়সারা মন্তব্যে আমরা হতাশ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে দ্রুত কালভার্ট নির্মাণকাজ শেষ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কালভার্টটির কাজ কখন শুরু হয়ে শেষ হবে, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা। কেন এ কালভার্টটি নিয়ে এমন পরিস্থিতি তৈরি হলো, তা নিয়ে তদন্ত করা হোক। দেশের আনাচে-কানাচে এমন অনেক কালভার্টের কাজ নিয়ে গড়িমসি করেন ঠিকাদারেরা। নানা অনিয়ম করেও একের পর এক কাজ বাগিয়ে নেন তাঁরা। তাঁরা কি প্রশাসনের চেয়েও প্রভাবশালী, নয়তো কেন তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে না, সেটিই আমরা জানতে চাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন