default-image

অন্য সব পণ্যের মতো কৃষিপণ্যেরও সরবরাহ কম থাকলে দাম বাড়বে, এই সত্য সাধারণত ভোক্তারা সহজভাবে নেন। কিন্তু যখন সাদাচোখেই দেখা যায়, কৃষকের কাছ থেকে কম দামে কিনে মধ্যস্বত্বভোগী চক্র কারসাজির মাধ্যমে খুচরা বাজারে দাম অনেক বাড়িয়ে দেয়, তখন তা জনক্ষোভের কারণ হয়। সম্প্রতি প্রায় সারা দেশের খুচরা বাজারে কেজি দরে তরমুজ বিক্রির মাধ্যমে অস্বাভাবিক বেশি দাম হাতিয়ে নেওয়া ভোক্তাশ্রেণিকে ক্ষুব্ধ করেছে।

কৃষি বিপণন আইন ২০১৮ অনুযায়ী, ফলের ক্ষেত্রে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা লাভ করা যাবে, এমন বিধান রয়েছে। তবে তরমুজের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা হিসেবে বলা আছে, তরমুজে কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকার বেশি লাভ করা যাবে না। আর পাইকারি বিক্রেতারা চাষিদের কাছ থেকে কেজি বা পিস যেভাবে কিনবেন, সেভাবেই তাঁদের বিক্রি করতে হবে।

দেখা যাচ্ছে, তরমুজের ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে পিস হিসেবে কিনছেন। কিন্তু কৃষি বিপণন আইন ভেঙে সেই তরমুজ কেজি দরে বিক্রি করছেন। খুচরা বাজারে ক্রেতারা সেই তরমুজ প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা দরে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। তাতে প্রতিটি তরমুজে গড় মূল্য পড়ছে প্রায় ৫০০ টাকা। অথচ সেই তরমুজ ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে কিনছেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। তার মানে, এই কারসাজির বিপণনে চাষিকে কম দাম দিয়ে ঠকানো হচ্ছে এবং ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা করে তাঁর কাছ থেকে বাড়তি পয়সা নেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

একটি তরমুজ মোটামুটি ৫ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। যে তরমুজের ওজন ৪ থেকে ৮ কেজির মধ্যে, তা সাধারণত ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ১০ কেজির ওপরে ওজন হলে তার দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। সেই হিসাবে ১০ কেজি ওজনের তরমুজ ৭৫০ টাকায় বিক্রির খবরও সংবাদমাধ্যমে এসেছে। শুধু এ সিন্ডিকেটের কারণে এই রমজান মাসে তরমুজ খেটে খাওয়া মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে।

আশার কথা, তরমুজের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাচ্ছেন এবং আইনভঙ্গের দায়ে বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ইতিমধ্যে জরিমানাও করা হয়েছে। তরমুজের বাজারের নৈরাজ্য ঠেকাতে এই অভিযান আরও জোরদার করা এবং সামাজিকভাবে এসব ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আরও সোচ্চার হওয়া দরকার।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন