বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্টেডিয়ামটি নিচু জমিতে হওয়ায় আশপাশের নালা-নর্দমার পানি এসে সেখানে পড়ে। কোথাও হাঁটু ও কোমরপানি। আউটার স্টেডিয়াম তো রীতিমতো বিশাল একটা ডোবায় পরিণত হয়েছে, যাতে ভাসছে কচুরিপানা। ভিআইপি গ্যালারি, খেলোয়াড়দের ড্রেসিংরুম, প্রেস বক্স, কর্মকর্তাদের রুম, স্কোরবোর্ড, টয়লেট, ফুডকোর্ট—সবকিছু খুলে খুলে ও ভেঙে পড়ছে। দীর্ঘদিনের অযত্ন–অবহেলায় পড়ে থেকে এবং বৃষ্টির পানিতে ভিজে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। পিচ শুকানোর রোলার মেশিনসহ অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে গেছে। অকেজো হয়ে গেছে দুই ফ্লোরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রগুলো। দর্শক গ্যালারিতে সিমেন্টের ঢালাই ভেঙে গেছে, ছাউনিও ভেঙে পড়েছে। জমে থাকার পানির কারণে ডেঙ্গু মশার বড় আখড়া বলা চলে একেকটি রুম। চারদিকে নোংরা ও আবর্জনা। রীতিমতো একটি ভুতুড়ে পরিস্থিতি।

একসময় প্রিমিয়ার লিগসহ ঘরোয়া-আন্তর্জাতিক সিরিজ ও বিদেশি দলের প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যস্ততা ছিল এ স্টেডিয়ামে। গত কয়েক বছরে সেটি নেই বললেই চলে। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধীনে থাকলেও স্টেডিয়ামটির রক্ষণাবেক্ষণের দিকে তাদের কোনো নজরই নেই। ক্রীড়া পরিষদ থেকে এ স্টেডিয়াম লিজ নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। ফলে তারাও কোনো রকম দায় এড়াতে পারে না। খেলা চললে সবকিছু ঠিক থাকবে, নয়তো সবকিছু নষ্ট হবে, পরবর্তীকালে এর জন্য সরকার থেকে নতুন বরাদ্দ আনা হবে। একটা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের এমন অবস্থা হবে কেন?

্রথম আলোর প্রতিনিধি জানাচ্ছেন, মূলত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধের ভেতরের এলাকার পানি সরতে পারে না। সব নালা, খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় গোটা এলাকার পানির শেষ ভরসা হয় স্টেডিয়াম। আশপাশের কলকারখানার বর্জ্যপানিও সেখানে এসে জমা হয়। বর্ষাকালে ও টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হলে স্টেডিয়ামে এমন জলাবদ্ধতা দেখা যায়। স্টেডিয়ামের ময়লা পানির দুর্গন্ধ ও মশার উৎপাতে রীতিমতো অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিএনডি বাঁধ এলাকায় পানিনিষ্কাশনের জন্য একটি প্রকল্পের কাজ চলছে। এই প্রকল্প শেষ হবে ২০২৩ সালে। তা হলে এই সময় পর্যন্ত এমন জলাবদ্ধতা নিয়েই থাকবে স্টেডিয়ামটি?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন