বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এরই মধ্যে ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েলের রপ্তানি বন্ধ করে দেয় এবং আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল রপ্তানি কমিয়ে দেয়। বাংলাদেশ মূলত মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে ভোজ্যতেল আমদানি করে থাকে। ইন্দোনেশিয়া ও আর্জেন্টিনার ঘোষণা ব্যবসায়ীদের বাড়তি সুবিধা এনে দেয়। মিলমালিকেরা সরবরাহ কমিয়ে দেন, ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা আরও বেশি লাভের আশায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল মজুত করেন। ফলে ঈদের দুই দিন আগে বাজার থেকে তেল উধাও হয়ে যায়।

এরপর দাম বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে তেলের শূন্য ড্রামগুলো পূর্ণ হয়ে যায়। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে হাজার হাজার লিটার সয়াবিন ও পাম তেল উদ্ধার করে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, যে পরিমাণ ভোজ্যতেল জব্দ হয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মজুত করা হয়েছিল। সবখানে অভিযান চালানোর সক্ষমতা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নেই। ফলে মজুত তেল উদ্ধার করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় সর্বাত্মক অভিযান চালানোর বিকল্প নেই। সেই সঙ্গে যাঁরা বেশি দাম পাওয়ার আশায় ভোজ্যতেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন, তঁাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী স্বীকার করেছেন, তিনি ব্যবসায়ীদের বিশ্বাস করে ভুল করেছেন। তাঁরা কথা রাখেননি। কিন্তু তিনি কীভাবে ভাবলেন তাঁরা কথা রাখবেন? ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করেন মুনাফার জন্য। মন্ত্রীর হিতোপদেশ বা সতর্কবাণীতে যে কোনো কাজ হয় না, তা ফের প্রমাণিত হলো। যদি ঈদের আগে সরকার বাজার তদারকি ও নজরদারি বাড়াত, তাহলে ব্যবসায়ীরা মজুতদারির সুযোগ পেতেন না।

আমরা পুরো বিষয়টির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। কেবল দোকানদার নয়, বাজার কারসাজির সঙ্গে জড়িত সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। অন্যথায় তেল নিয়ে তেলেসমাতি চলতেই হবে। আর অসাধু ব্যবসায়ীরা ভবিষ্যতে অন্য কোনো পণ্যকে উপলক্ষ করে ক্রেতাসাধারণের পকেট কাটতেই থাকবেন।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন