গত ছয় বছরে সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অন্তত ১৭২ জন নেতা-কর্মীর খুন হওয়া নিশ্চিত করে যে দলটির অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এটা একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নে সরকারের কৃতিত্বের দাবিকেও গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করে। ১৭২টি খুনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলটি কোথাও কোনো ধরনের তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য জানা যায় না।
উপরন্তু এটাই অনুমেয় যে কোনো খুনের ঘটনার প্রশাসনিক তদন্তেও আইন তার নিজের গতিতে চলতে পারেনি। গত ছয় বছরে অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ছাত্রলীগের ৪০ নেতা-কর্মী নিহত হলেও এসব ঘটনায় দায়ের করা মামলাগুলোর প্রায় সব কটিই তদন্তের পর্যায়ে আটকে আছে। পুলিশ প্রশাসনে অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ না ঘটলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অভিযোগপত্র পর্যন্ত দাখিল করা হবে না, সেটা বিশ্বাস করা যায় না।
ক্ষমতায় থেকেও খুনোখুনিচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কর্মী হত্যাকাণ্ডের সাম্প্রতিক ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের পরিচয়-নির্বিশেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির আদৌ পরিবর্তন ঘটেছে বলে প্রতীয়মান হয় না। দেশের ছাত্ররাজনীতির ইতিহাসে এটা একটা অভাবনীয় বিষয় যে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে সৃষ্ট খুনের মিছিলে ছাত্রলীগ এগিয়ে আছে। বিরোধী দলকে মাঠে প্রতিহত করার ক্ষেত্রে ইদানীং এই ছাত্রসংগঠনকেই বেশি সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের মানতে হবে যে এটা তাঁদের দলের জন্য মোটেই ভালো নয়।
এখানে যে বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয় এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার বিষয়, সেটা হলো খুনোখুনি কেবল অভ্যন্তরীণ কোন্দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। এটা অপ্রিয় সত্য যে অভ্যন্তরীণ খুনের ঘটনার বিচার করা অধিকতর দুরূহ, কিন্তু অভ্যন্তরীণ কোন্দল ছাড়া আরও ২৪৬ নেতা-কর্মী এ সময়ে খুন হয়েছেন। তারও বিচার হচ্ছে না। এসব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার কাম্য।
তবে রাজনীতিতে সরকারি ও বিরোধী নির্বিশেষে সব সংগঠনের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে। দুষ্টের লালন কখনোই কোনো রাজনৈতিক দলের নীতি হতে পারে না।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন