কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলায় খাদ্যগুদামের সংকটের কারণে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নে ব্যাঘাত সৃষ্টি হওয়ার খবরটি উদ্বেগজনক।

রোববার প্রথম আলোয় প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, পেকুয়া উপজেলায় কোনো খাদ্যগুদামই নেই। আর চকরিয়া উপজেলার বদরখালীতে অবস্থিত খাদ্যগুদামটি ২৮ বছর ধরে পরিত্যক্ত। এই উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নে একটিমাত্র খাদ্যগুদাম রয়েছে। আড়াই হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন খাদ্যগুদামটিতে পেকুয়া ও চকরিয়া উপজেলার জন্য বরাদ্দ করা সরকারের ভিজিডি কর্মসূচি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিজিএফ কর্মসূচি এবং মৎস্যজীবীদের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির খাদ্যশস্য রাখা হয়। তবে গুদামটির অবস্থান নিচু জায়গায় হওয়ায় বর্ষাকালে ৫০০ মেট্রিক টনের তিনটি শেড পানির নিচে থাকে। এ কারণে বর্ষাকালে মাত্র এক হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য রাখা যায়। চিরিঙ্গা খাদ্যগুদামে জায়গা সংকুলান না হলে পেকুয়ার জন্য বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য রাখা হয় কক্সবাজার সদরের খাদ্যগুদামে। তাই প্রয়োজনের সময় পেকুয়া উপজেলার সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিসহ অন্যান্য কর্মসূচির ডিলারদের ২৫ কিলোমিটার দূরের চিরিঙ্গা খাদ্যগুদাম বা ৮৫ কিলোমিটার দূরের কক্সবাজার খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্যশস্য আনতে হয়। পরিবহন খরচের কারণে এ কর্মসূচির ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শুধু চকরিয়া বা পেকুয়া উপজেলাতেই নয়, সারা দেশেই খাদ্যগুদামের সংকট রয়েছে। ধান উৎপাদন হয়, এমন এলাকাগুলোতে বেশি করে গুদাম থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। আবার দেখা যায়, গুদাম থাকলেও সেগুলো নানা কারণে বন্ধ রয়েছে। আবার অনেক খাদ্যগুদাম এতটাই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে যে সেগুলোতে খাদ্য রাখাটা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, জরাজীর্ণ গুদামে খাদ্য রাখার কারণে বহু খাদ্যশস্য নষ্ট হয়েছে। গুদামসংকটের কারণে কৃষকদের কাছ থেকে ধান–চাল কিনতে পারছে না সরকার। এতে কৃষকেরা প্রায়ই ক্ষতির মুখে পড়েন।

প্রশ্ন হচ্ছে এভাবে কত দিন চলবে? কেন দেশে প্রয়োজনের তুলনায় খাদ্যগুদামের সংখ্যা কম? সরকার আসন্ন আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে ৬ লাখ মেট্রিক টন ধান, ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৫০ হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশে খাদ্যগুদামের মোট ধারণক্ষমতা ২১ লাখ মেট্রিক টন। এর সিংহভাগে আগে থেকেই চাল মজুত আছে। এই বাড়তি কেনা ধান–চাল তাহলে রাখবে কোথায়? প্রয়োজনীয় খাদ্যগুদাম তৈরি না করে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া কতখানি যৌক্তিক?

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সরকার খুব শিগগির ১৭০টি খাদ্যগুদাম ও ৫ হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ২০০টি পেডি সাইলো (ধান সংরক্ষণের বিশেষ ব্যবস্থা) নির্মাণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। কিন্তু যেসব খাদ্যগুদাম আগে থেকেই আছে, সেগুলোর মোট ধারণক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। কারণ, অনেক খাদ্যগুদামের কিছু অংশে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ করা যায় না। সেগুলো সংস্কার করাও একান্ত প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন