বিজ্ঞাপন

বাঁধের কারণে খালের পানি আটকে তৈরি হওয়া এই জলাবদ্ধতা ১৭ দিন ধরে চলছে রশিদপুর গ্রামে। প্রতিবছরই এই ভোগান্তি পোহাতে হয় তাঁদের। প্রথম আলোর রোববারের সচিত্র সংবাদে দেখা যায়, মানুষের ডুবে যাওয়া সংসার, বোঝা যায় নিজের বাড়িঘরে থাকতে না–পারা মানুষের হাহাকার। অথচ স্থানীয় চেয়ারম্যান বললেন, তিনি বিষয়টি সম্প্রতি জেনেছেন। অন্যদিকে গ্রামবাসী সকালবেলা পানি ডিঙিয়ে উঁচু জমিতে প্রতিবেশীর ঘরবাড়িতে ঘুরে ঘুরে দিন কাটান। রাতে ফিরে খাটের ওপর চুলা বসিয়ে রান্নার কাজ সারেন। জলাবদ্ধতার পানিতে চর্মরোগের শিকারও হচ্ছেন অনেকে। এত মানুষের কষ্ট বনাম কতিপয় মাছ ব্যবসায়ীর স্বার্থ—কোন দিকে যাবে প্রশাসন?

যে সমস্যা আট বছর ধরে মানুষকে ভোগাচ্ছে, তার সমাধানের দায়িত্ব স্থানীয় সরকার ও জেলা–উপজেলা প্রশাসনের। তারা যে ওই প্রভাবশালীদের পক্ষে, তা তাদের আট বছরের নিষ্ক্রিয়তাই বুঝিয়ে দেয়।

শুধু কি ময়মনসিংহের একটি গ্রাম? সারা দেশেই কোথাও বিদ্যালয়ের জমিতে পুকুর কেটে, কোথাও পার্ক দখল করে, কোথাও নদী–খাল–বিলে বাঁধ দিয়ে ব্যক্তি বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ চরিতার্থ করার সংবাদ নিয়মিতভাবেই সংবাদমাধ্যমে আসে। প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এলাকার রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের যোগাযোগ এবং প্রশাসনের ছত্রচ্ছায়া দেখা যায়। ক্ষমতার এই জোটের কাছে সাধারণ মানুষ নিতান্তই অসহায় বোধ করেন। অবৈধ ও আইনবহির্ভূত এই সব বাঁধ কি সরকারি ক্ষমতার চেয়ে মজবুত? এসবের দ্বারা লাভবানেরা কি আইনের ঊর্ধ্বে?

আমরা আশা করব, আইনের হাত এসব অন্যায়ের বাঁধ দ্রুতই ভেঙে দেবে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো না হলে আছে কেন?

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন