বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিআরটিএর তথ্যানুযায়ী, ২০১০ সাল পর্যন্ত সারা দেশে যেখানে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল ছিল সাড়ে সাত লাখ, সেখানে চলতি বছরের অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত মোটরসাইকেলের সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে হয়েছে ৩৪ লাখ। এর বাইরেও দেশের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক অনিবন্ধিত মোটরসাইকেল রয়েছে। বায়না মেটাতে অনেক অভিভাবক কিশোর সন্তানের হাতে এ মরণফাঁদ তুলে দেন। অনেক কিশোর আত্মীয় বা অন্যদের কিংবা ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালায়। ১৮ বছরের নিচে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স পায় না বলে ট্রাফিক আইনও ঠিকমতো জানে না।

এ সংখ্যা কেবল উদ্বেগ বাড়ায় না, সড়ক পরিবহনে যে ভয়াবহ নৈরাজ্য চলছে, তারও চিত্র উঠে এসেছে। বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালনার পাশাপাশি মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার না করাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। ভালো মানের একটি হেলমেট পরলে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে। পৃথিবীর অনেক দেশে ১৮ বছরের নিচের বয়সী ছেলেমেয়েকে মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি দেওয়া হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে ১৮ বছরের কম বয়সী ছেলেরাও মোটরসাইকেল চালাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন জরুরি, তেমনি অভিভাবকদেরও সজাগ থাকতে হবে।

এদিকে বৃহস্পতিবার যাত্রী কল্যাণ সমিতি সংবাদ সম্মেলনে তালিকা প্রদর্শন ছাড়া বাসে ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায়, সিটিং সার্ভিসের নৈরাজ্য ও ভাড়া ডাকাতি বন্ধের যে দাবি জানিয়েছে, সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে চাইলে কর্তৃপক্ষকে তা আমলে নিতে হবে। সমিতির অভিযোগ, ঢাকার পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বারবার ঘোষণা দিয়েও কথিত সিটিং সার্ভিস বন্ধ ও চালুর ইঁদুর-বিড়াল খেলা খেলছেন, যা হতে দেওয়া যায় না। যে হারে তেলের দাম বেড়েছে, তার চেয়ে বেশি হারে বর্ধিত বাসভাড়া নেওয়ার যুক্তি নেই। সড়কে শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে গণপরিবহনে অযৌক্তিক বর্ধিত ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলসহ কোনো যানবাহনকে আইন মেনে চলতে বাধ্য করতে হবে। মনে রাখতে হবে, সড়কে নৈরাজ্য কেবল যাত্রীদের সমস্যায় ফেলছে না, পরিবহনমালিক ও শ্রমিকদেরও ঝুঁকিতে ফেলবে।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন