বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রশ্ন হলো, গণপরিবহনমালিকেরা অর্ধেক আসন খালি রাখার বিষয়টি মানবেন কি না। মানলে তাঁরা আবার ভাড়া বাড়িয়ে দেবেন কি না। অনেক পরিবহনমালিক বলতে শুরু করেছেন, অর্ধেক আসন খালি রাখলে তাঁদের ব্যবসা মারাত্মক বিপর্যয়ে পড়বে। গত বছর ডেলটা সংক্রমণের সময় পরিবহনমালিকেরা ভাড়া দ্বিগুণ করার শর্তে অর্ধেক আসন খালি রেখেছিলেন। নিত্য যানজটের শহর ঢাকায় সেটি কার্যকর করা যায়নি; তাঁরা দ্বিগুণ ভাড়া নিয়েছেন ঠিকই, আসন খালি রাখেননি।

লঞ্চমালিকেরা ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন, তাঁরা ভাড়া বাড়াবেন না। আমরা তাঁদের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানাই। আমরা চাই গণপরিবহনগুলো ঠিকঠাকমতো চলুক, তাতে যাত্রী হয়রানি কমবে এবং মানুষ গণপরিবহন ব্যবহার করতে অধিক আগ্রহী হবেন। দ্বিতীয়ত, স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালানোর যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, সেটি বাস্তবায়ন করতে হলে প্রত্যেক পরিবহনকর্মীর অন্তত দুই ডোজ টিকা নিশ্চিত করতে হবে। বাস্তবে ২০ লাখ গণপরিবহনকর্মীর বেশির ভাগ এখনো টিকা কর্মসূচির বাইরে আছেন। সরকার যাঁদের সম্মুখসারির যোদ্ধা ঘোষণা করেছে, গণপরিবহনকর্মীরাও তার মধ্যে পড়েন। অতএব, দ্রুত সব গণপরিবহনকর্মীকে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা নিন।

পরিবহনমালিকেরা সবকিছু খোলা রেখে কেবল গণপরিবহনের অর্ধেক আসন খালি রাখার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কিন্তু তাঁরা যে কথা বলেননি, তা হলো তেলের দাম বাড়ানোর অজুহাতে গণপরিবহনের ভাড়া আগেই ৩০ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ ভাড়া বাড়ানোর প্রতিবাদ করেছে এবং পরিসংখ্যান দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, যাত্রী ভাড়া না বাড়ালেও মালিকেরা লোকসানে পড়তেন না। সে সময় যাত্রীদের কথা শোনেনি সরকার। এখন নতুন করে ভাড়া বাড়ালে যাত্রীসাধারণ আরও বেশি চাপে পড়বে।

এ প্রেক্ষাপটে আমরা বলতে চাই, গণপরিবহনের আসন অর্ধেক খালি হোক বা পুরোটা ভর্তি হোক, যাত্রী ভাড়া বাড়ানো যাবে না। অনেক সময় পরিবহনমালিকেরা লোকসানের দোহাই তুলে ভাড়া বাড়িয়ে দেন। এমনকি অনেক মালিক ও পরিবহনশ্রমিক নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করেন। আমরা মনে করি, কোনো অবস্থায় গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানো যাবে না। যাত্রীসাধারণ যাতে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার না হয়, সে বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। মালিকদের উচিত ভাড়া বাড়ানোর আবদার না তুলে গণপরিবহনে যাত্রীদের স্বাস্থ্যবিধি মানানোর প্রতি নজরদারি বাড়ানো।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন