default-image

গতকাল প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘হেলিকপ্টার আর তারকাদের ফাঁদ, কষ্টে প্রতারিত মানুষ’ শিরোনামে প্রকাশিত এক সচিত্র প্রতিবেদনে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার বেতবাড়িয়া ইউনিয়নে গণপ্রতারণার যে বিবরণ ছাপা হয়েছে, তা বেশ চমকপ্রদ। কিন্তু এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়; বরং গ্রামগঞ্জের সাধারণ মানুষের সারল্যের সুযোগ নিয়ে আর্থিকভাবে তাঁদের সর্বস্বান্ত করার ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে। এ রকম কোনো ঘটনা যখন সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরা হয়, তখন চাঞ্চল্য দেখা দেয়; আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের বাড়তি তৎপরতা দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, কখনো কখনো প্রতারকদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোও সম্ভব হয়, কিন্তু জনসাধারণের টনক নড়ে না। ফলে কিছুকাল পরপরই দেশের কোনো না কোনো অঞ্চলে এ ধরনের গণপ্রতারণার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

কুষ্টিয়ার বেতবাড়িয়ার ঘটনায় দেখা যাচ্ছে, রুবেল আহমেদ নামের প্রতারক ব্যক্তিটি শুধু ওই ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সঙ্গেই প্রতারণা করেননি, ইউপি চেয়ারম্যান ও খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আক্তারকেও ধোঁকা দিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রুবেল আহমেদ সংস্কৃতি জগতের তারকাদের নিয়ে হেলিকপ্টারে করে বেতবাড়িয়ার মতো অজপাড়াগাঁয়ে গিয়ে গণপ্রতারণার মাধ্যমে তিন মাসে কয়েক শ পরিবারের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে চম্পট দিতে পেরেছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান বাবুল আক্তারের প্রাথমিক সহযোগিতায়। অবশ্য বাবুল আক্তার ধোঁকা খেয়েছেন—এটা বুঝতে পারার পর মামলা করেছেন এবং পুলিশ রুবেল আহমেদ ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা বাবুল আক্তার যদি রুবেল আহমেদের বিরুদ্ধে চলে না যেতেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা না করতেন, তাহলে গণপ্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত এই ব্যক্তি সম্ভবত আইন প্রয়োগকারীদের অলক্ষ্যে মানুষকে ঠকানোর ব্যবসা চালিয়েই যেতেন। আমাদের এ সংশয়ের কারণ, এ ধরনের অপরাধ সংঘটন সম্ভব হয় সাধারণত রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী লোকজনের সহায়তায় বা আশ্রয়–প্রশ্রয়ে।

মাল্টিলেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি কিংবা উন্নয়ন সংস্থার নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা অতীতে অনেকবার ঘটেছে। কুষ্টিয়ার ঘটনায়ও দেখা যাচ্ছে, রুবেল আহমেদ শ দুয়েক পরিবারকে পথে বসিয়েছেন এনজিওর মাধ্যমে ওই এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে; এখন তাঁর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু তা থেকে এমন নিশ্চয়তা মিলবে না যে ভবিষ্যতে আর কোনো গণপ্রতারকের আবির্ভাব ঘটবে না। এ সমস্যা সমাধানের জন্য জনগণকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে। আর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচিত এ ধরনের তৎপরতার খবর পাওয়ামাত্র জোরালো অভিযান চালিয়ে প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন