অবরোধ-হরতালের নামে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট দেড় মাস ধরে এমন সব কাণ্ড করে আসছে, যা কেবল দেশের জনজীবনকেই বিপর্যস্ত করেনি, শতাধিক নিরীহ মানুষও সন্ত্রাস ও নাশকতার বলি হয়েছে। যে দলটি জনগণের রায়ে একাধিকবার ক্ষমতায় এসেছে, ভবিষ্যতেও ক্ষমতায় যাওয়ার খোয়াব দেখছে, সেই দলটি কীভাবে দেড় মাস ধরে সেই জনগণকেই জিম্মি করে রেখেছে? 
লাগাতার অবরোধের পাশাপাশি আজ থেকে ফের ৭২ ঘণ্টা হরতাল পালনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি জোট। এই ঘোষণা কোত্থেকে ও কীভাবে আসে, সেসব সম্ভবত দলের নেতা-কর্মীরাও জানেন না। দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, দলটি মহান ভাষা আন্দোলনের দিবসটিকেও তাদের কর্মসূচি থেকে রেহাই দেয়নি। দেশব্যাপী অবরোধের মধ্যেই তারা জনগণকে ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিজড়িত একুশে ফেব্রুয়ারি পালন করতে বাধ্য করেছে। আজকের হরতালের কারণে চতুর্থবারের জন্য এসএসসি পরীক্ষা পেছাতে হয়েছে। তবে বিএনপির স্ববিরোধিতা হলো দলটির নেতাদের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যথারীতি খোলা রয়েছে। তাহলে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর কেন এই অবরোধ-হরতাল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
যে রাজনীতি মানুষকে জিম্মি করে এবং দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে, আমরা সেই রাজনীতি প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানাই। সরকারের অগণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিরোধী দল প্রতিবাদ জানাবে। কিন্তু তার ভাষা কখনোই সশস্ত্র কিংবা সহিংস হতে পারে না। সরকার যখন গায়ের জোরে বিরোধী দলের কণ্ঠ স্তব্ধ করে দিতে চায়, তখনো তার প্রতিবাদ করতে হবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে।
যে অবরোধে জনগণের সমর্থন নেই, যে হরতাল জনগণ আমলে নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না, সেই কর্মসূচি পালনের নামে নিজেদের হাস্যকর করে তোলার কী যুক্তি আছে? দেশকে ধ্বংস করার কিংবা জনজীবনকে বিপন্ন করার অধিকার কারও নেই। বিএনপি আমলে যখন আওয়ামী লীগ এ ধরনের কর্মসূচি দিত, তখনো আমরা একইভাবে প্রতিবাদ করেছি। অতএব, এই মুহূর্তে হরতাল-অবরোধ প্রত্যাহার করুন। অন্যথায় জনগণই আপনাদের প্রত্যাখ্যান করবে।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন