বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উদ্বেগের বিষয়, মানবেতর পর্যায়ে নিপতিত মানুষের সহায়তায় সরকারের ভর্তুকি দেওয়া টিসিবির সেই পণ্য কিছু অর্থলিপ্সু মানুষ কৌশলে চুরি করছে। ভুয়া লাইসেন্স নিয়ে তারা পণ্য তুলে কালোবাজারে বিক্রি করে দিচ্ছে। গরিব মানুষকে পণ্য নিয়ম মেনে বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে কাগজে-কলমে দেখানো হচ্ছে। আদতে ভর্তুকির পুরো টাকা চলে যাচ্ছে অর্থগৃধ্নু কালোবাজারিদের পকেটে। সিলেটের জৈন্তাপুরে দুটি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামে ডিলারশিপ নিয়ে টিসিবির পণ্য তুলে কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার ঘটনা বিষয়টিকে আবার সামনে এসেছে।

দেখা যাচ্ছে, নিজপাত ইউনিয়নে ফাতেহা রোড এলাকায় মেসার্স রাম ও মেসার্স কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজ নামের মুদিদোকান উল্লেখ করে গত বছরের অক্টোবরে দুটি ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করা হয়। কাগজপত্র অনুযায়ী, রাম এন্টারপ্রাইজের মালিক হরেন্দ্র পুরকায়স্থ ও কৃষ্ণ এন্টারপ্রাইজের মালিক ঝলক দাস। গত ১৪ জুলাই এই দুই লাইসেন্সের বিপরীতে জৈন্তাপুর উপজেলায় ট্রাকে করে বিক্রির জন্য মৌলভীবাজারে টিসিবি আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পণ্য তোলা হয়। খোলাবাজারে বিক্রির জন্য একেকটি প্রতিষ্ঠান ৫০০ কেজি চিনি, ৫০০ কেজি ডাল ও ১ হাজার লিটার সয়াবিন তেল নিয়েছিল। কিন্তু তা ট্রাকে বিক্রি করা হয়নি। পরে দেখা গেছে, এই নামে আদতে কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানই নেই। সে প্রতিষ্ঠানের মালিক কারা, তা–ও জানা যাচ্ছে না। লাইসেন্স দুটি দেওয়া হয়েছে যে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে, তার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও বলছেন, কীভাবে লাইসেন্স দুটি ইউপি থেকে দেওয়া হয়েছে, তা তিনি জানেন না। কীভাবে এই দুই প্রতিষ্ঠানকে পণ্য দেওয়া হলো, সে বিষয়ে টিসিবির কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে ভুতুড়ে কায়দায় গরিবের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি পণ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা দেশের অন্যত্রও ঘটছে বলে আশঙ্কা করা যেতে পারে। সেই আশঙ্কার সঙ্গে বাস্তব অবস্থার মিল কতটুকু, তা টিসিবিকেই খতিয়ে দেখতে হবে। এভাবে গরিবের হক মেরে খাওয়া ভুতুড়ে ব্যবসায়ীদের দ্রুত খুঁজে বের করে সাজা নিশ্চিত করতে না পারলে মহৎ উদ্যোগটি নস্যাৎ হতে বাধ্য।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন