বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে জানা যাচ্ছে, ১৯৪০ সালে জেলার প্রধান প্রসূতিসেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে ওঠে গাইবান্ধা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্র। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গতানুগতিক নিয়মে চলছিল ২০ শয্যাবিশিষ্ট প্রসূতিসেবা কেন্দ্রটি। কিন্তু ২০০৪ সালে আফছারী খানম নামের এক গাইনি বিশেষজ্ঞ এখানে মেডিকেল কর্মকর্তা পদে যোগ দিলে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। গাইবান্ধা নদীভাঙনকবলিত দরিদ্র এলাকা। তিনি সেবা দিতে গিয়ে দেখেন, এখানকার নারীরা অনেকটাই চিকিৎসাবঞ্চিত। তাই স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব করানোর কথা ভাবেন তিনি। সে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে থাকলে একের পর এক আসতে থাকে সাফল্য। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান প্রসবসহ প্রসূতিসেবার জন্য গত ১৫ বছরে কেন্দ্রটি ১১ বার জাতীয় পুরস্কার ও একবার বিভাগীয় পুরস্কার পায়।

মান ও সুনামের কারণে কেন্দ্রটিতে প্রতিদিন সেবা নিতে আসা নারীদের উপচে পড়া ভিড় লেগেই থাকে। মাতৃসেবা, শিশু পরিচর্যা কিংবা কিশোরীদেরও সেবা—সবকিছুই আন্তরিকভাবে করার প্রচেষ্টা থাকে এখানকার স্বাস্থ্যকর্মীদের। তিনতলার সুন্দর পরিবেশ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাসের পরিপাটি কক্ষে আছে রোগীদের বসার ব্যবস্থা, ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার, সাধারণ রোগীর সেবা, গর্ভবতী মায়ের সেবা, স্বাভাবিক প্রসব ও অস্ত্রোপচার আর কিশোরীদের স্বাস্থ্যসেবা। কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই বিনা মূল্যে সেবা পাচ্ছেন এখানে আসা নারীরা। তবে আফছারী খানম বদলি হয়ে যাওয়ায় মেডিকেল কর্মকর্তা পদসহ আরও কিছু পদ এর মধ্যে শূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে গাইবান্ধার প্রসূতিসেবা কেন্দ্রটির সেবার মান ও সাফল্য অটুট রাখতে সেখানে দ্রুত লোকবল নিয়োগ করা হোক।

আমরা আফছারী খানমের মতো চিকিৎসককে অভিবাদন জানাই। অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হোন তিনি। গাইবান্ধা মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রের এ সাফল্য ছড়িয়ে পড়ুক গোটা দেশে। নিরাপদ মাতৃসেবা, শিশু ও মাতৃমৃত্যু রোধে বাংলাদেশ হয়ে উঠুক বিশ্বের দরবারে অনন্য এক উদাহরণ।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন