default-image

খবরটি ছোট। কিন্তু তাৎপর্য বড়। গত রোববার শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমি প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এক হাতে চারা, আরেক হাতে লাল কার্ড নিয়ে শপথ নিয়েছেন। তাঁরা শপথ নিয়েছেন গাছের চারা রোপণ করে দেশকে সবুজ করবেন। পরিবেশ নির্মল করবেন, অক্সিজেনের অভাব দূর করবেন। আর লাল কার্ড দেখাবেন মাদকসেবী ও ধর্ষকদের।

যে সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্ষকদের উৎপাত বেড়েছে, ভয়াবহভাবে মাদকের বিস্তার ঘটছে, সে সময়ে এই আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকসেবী ও ধর্ষকদের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা খুবই জরুরি। পরিবার ও সমাজ থেকেই এদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। প্রথম আলোর শেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো খবর থেকে জানা যায়, ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় শ শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষকেরাও গাছের চারা ও লাল কার্ড হাতে শপথ নেন। শপথ পড়ান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ রেজুয়ান।

বিজ্ঞাপন

লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ এ পর্যন্ত ৫২টি জেলায় এ শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। পর্যায়ক্রমে সব জেলায় শপথ কর্মসূচি পালন করার পরিকল্পনা আছে তাদের। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ প্রথমে দুস্থ ও গরিব শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাতা-পেনসিল ও ব্যাগ বিতরণ করত। পরে তাদের কর্মসূচিতে যোগ হয় গাছের চারা লাগানো এবং ধর্ষক-মাদকসেবীদের লাল কার্ড দেখানো। সংগঠনের আহ্বায়ক কাওসার আলম জানান, বিদ্যালয়, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাশ্রমে এ সংগঠন গড়ে উঠেছে। বর্তমানে সদস্যসংখ্যা ৩ হাজার। বাইরের কারও কাছ থেকে তাঁরা সহায়তা নেন না। প্রত্যেক সদস্য টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে মাসে ১০ টাকা চাঁদা দেন, যা দিয়ে কর্মসূচির ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

সংগঠনটির সদস্যরা প্রতিবছর টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক লাখ গাছের চারা বিতরণ করেন। করোনাকালে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও তাঁরা ৫২টি জেলায় এ পর্যন্ত ৮৪ হাজার ৭০০টি গাছের চারা বিতরণ করেছেন।

ছোট বালুকার কণা, বিন্দু বিন্দু জল, গড়ে তোলে মহাদেশ সাগর অতল। এ রকম ছোট ছোট উদ্যোগই সমাজকে বদলাতে পারে। আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী মিলে এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়লে সমাজে তার ইতিবাচক প্রভাব পড়বেই।

লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের এ আয়োজনকে আমরা স্বাগত জানাই।

মন্তব্য পড়ুন 0