বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিস্ময়কর হলো, এই মামলায় যাঁদের সাক্ষী করা হয়েছে, তাঁরা বলেছেন, এ রকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। তাঁরা ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ শোনেননি। যে ঘটনা ঘটেনি, সেই ঘটনার কথা বলে কারও বিরুদ্ধে মামলা হলো গায়েবি মামলা। প্রথম আলোর যশোর অফিস থেকে পাঠানো খবরে মামলার আসল রহস্য জানা গেল। ১৬ জানুয়ারি ঝিকরগাছা পৌরসভার নির্বাচন হতে যাচ্ছে ২২ বছর পর। এর আগে সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছে ২০০০ সালে। সেই নির্বাচনে জয়ী হন বর্তমান মেয়র, যিনি এবারও ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেয়েছেন। অভিযোগ আছে, সীমানাসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে নির্বাচন আটকে রাখায় তাঁর মুখ্য ভূমিকা ছিল। পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়ে ২২ বছর মেয়র পদে অধিষ্ঠিত থাকার নজির একমাত্র সব সম্ভবের দেশ বাংলাদেশেই সম্ভব।

নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে বিরোধী দলের তিনজন কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপির নেতা ও মেয়র পদপ্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের আজগুবি মামলার আসামি করার উদ্দেশ্য হলো আওয়ামী লীগ প্রার্থীর জয়ের পথ নিরঙ্কুশ করা। পুলিশ যে ধারায় মামলা করেছে, সেটি জামিন-অযোগ্য। এ কারণে আসামিরা হাইকোর্টে রিট করেছেন। তাঁদের মধ্যে তিন কাউন্সিলর প্রার্থীসহ ১০ জন জামিন পেয়েছেন। ইতিমধ্যে তাঁদের যা ক্ষতি হয়েছে, তা পূরণ হওয়ার নয়।

এ রকম গায়েবি মামলার ঘটনা কেবল ঝিকরগাছায় নয়, অনেক স্থানেই ঘটছে। বিশেষ করে যেখানে বিএনপি কর্মসূচি নেয়, সেখানে এই মামলা ও ধরপাকড়ের ঘটনা বেশি হচ্ছে। মানুষ ২০১৮ সালের পুনরাবৃত্তি চায় না। তারা একটি গ্রহণযোগ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনই চায়। বিরোধী দলের কর্মসূচি পণ্ড করতে এবং ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের জিতিয়ে আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যে যথেচ্ছ গায়েবি মামলা ব্যবহার করছে, তা কেবল অগ্রহণযোগ্য নয়, নিকৃষ্ট নজিরও বটে। অবিলম্বে ঝিকরগাছাসহ বিভিন্ন স্থানে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে যেসব গায়েবি মামলা দেওয়া হয়েছে, তা অবিলম্বে প্রত্যাহার করা হোক।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন