গুদাম বন্ধের সিদ্ধান্ত

সম্পাদকীয়

পটুয়াখালীর কৃষকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার অবস্থা তৈরি হয়েছে। কারণ, জেলার লাউকাঠিতে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বাফা) গুদাম থেকে ডিলারদের মধ্যে সার সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ডিলারদের বাফার বরিশাল গুদাম থেকে সার সরবরাহ করার জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর চিঠিও দেওয়া হয়েছে। সমস্যা হলো বরিশাল থেকে তুলে পটুয়াখালীর কৃষক পর্যায়ে সঠিক সময়ে সার পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব।

পটুয়াখালীর গুদামটি বন্ধ করা হচ্ছে। কারণ, এটি অনেক পুরোনো। ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) মনে করছে, এটি ব্যবহারের অনুপযোগী। এ কারণে সার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকির কারণে সেটি তারা বন্ধ করতে বলেছে। জেলা প্রশাসনের তদন্তেও একই চিত্র মিলেছে। কিন্তু তারা বলেছে, মেরামত করলে এটি আরও কয়েক বছর ব্যবহার করা যাবে।

মনে রাখা দরকার, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীসহ বেশ কিছু এলাকায় নৌকা ছাড়া মাল পরিবহন অসম্ভব। বর্তমানে জেলার ডিলাররা বাফার গুদাম থেকে সার নিয়ে এক দিনেই নিজ এলাকায় ফিরতে পারেন। কিন্তু যখন বরিশাল থেকে সার আনতে হবে, তখন তাঁদের তা আনতে দুই থেকে তিন দিন লাগবে। খরচ বাড়বে। ফলে দাম বাড়বে। দিন শেষে কৃষকেরাই ক্ষতির মুখে পড়বেন।

জেলায় বাফার গুদাম স্থাপনের পর থেকে কৃষক পর্যায়ে সারের সহজলভ্যতার কারণে তরমুজ, মুগডাল, আউশ, বোরোসহ বিভিন্ন রবি ফসল উৎপাদনে সফলতা এসেছে। এখন সার যদি বরিশাল থেকে আনতে হয়, তাহলে তা গোটা জেলার কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। বাফার বরিশাল গুদাম থেকে বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার ডিলারদের সার সরবরাহ করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পটুয়াখালীর ডিলারদেরও বরিশাল থেকে সার তুলতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

বর্তমানে পটুয়াখালীতে আমন বীজতলা তৈরি শেষ করে রোপণ কার্যক্রম চলছে। জেলায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ফলে প্রচুর সার ব্যবহার হবে। সারের অভাবে আমন মৌসুমে ব্যাঘাত ঘটলে আমন আবাদে বিরূপ প্রভাব পড়বে। এ অবস্থায় পটুয়াখালীতে সারের গুদাম রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। এ জন্য দ্রুত গুদামটি মেরামত করে সার মজুত নির্বিঘ্ন করা হোক। পাশাপাশি এখানে বৃহৎ পরিসরের নতুন গুদাম নির্মাণে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।