ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, এনকাউন্টারের সঙ্গে পুলিশের ভাষ্যে যোগ হয়েছে আরেকটি শব্দ—গণপিটুনি। রাজধানীর মিরপুরে তিন তরুণ নিহত হয়েছেন উপর্যুপরি গুলিতে, অথচ পুলিশ বলছে তাঁরা জনতার হাতে নিহত হয়েছেন। জনতা ৫৪টি গুলি করে অন্ধকার গলিতে তিন তরুণকে হত্যা করতে পারে—এমন দাবি কোনো শিশুকেও বিশ্বাস করানো সম্ভব হবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রশ্ন, তারা কি পুলিশের ভাষ্য বিশ্বাস করবে, নাকি তদন্ত করে হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার ব্যবস্থা নেবে?
মিরপুরে নিহত তিন তরুণের শরীরে যথাক্রমে ২২, ১৭ ও ১৫টি গুলির চিহ্নের কথা লেখা হয়েছে সুরতহাল প্রতিবেদনে। মরদেহে পিটুনির আলামতও মেলেনি। ঘটনাস্থলে বেঁধে রাখার দড়ি ও গুলির খোসা পাওয়া গেছে। এলাকাবাসী জানান, ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল ওই তিন তরুণকে একটি গলির ভেতর নিয়ে গিয়ে গুলি করে। স্পষ্টতই এটি পরিকল্পিত সংঘবদ্ধ হত্যাকাণ্ড। বুলেটের ধরন বিশ্লেষণ করলেও বোঝা যাবে আগ্নেয়াস্ত্র ও ব্যবহারকারীদের পরিচয়।
তিনজনের দেহে ৫৪ গুলি, পুলিশ বলছে গণপিটুনিমিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহউদ্দীন খান প্রথম আলোকে বলেছেন, ‘অনেকের কাছেই লাইসেন্স করা অস্ত্র আছে...সেই অস্ত্র নাশকতার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।’ এই ‘অনেক’ কারা, কেন তারা ৫৪টি গুলি পকেটে নিয়ে ঘোরে—দেশে কি যুদ্ধ চলছে? গত ২৮ জানুয়ারি স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘যারা মানুষকে পোড়াবে বা আঘাত করবে, তাদের বিরুদ্ধে যত কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া দরকার, সেটা আপনারা নেবেন। কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। যা কিছু হোক, সেই দায়িত্ব আমি নেব।’ সন্ত্রাস-নাশকতার বিরুদ্ধে কঠিন আইন প্রয়োগের সুযোগ যখন অবারিত, তখন বিনা বিচারে নৃশংস পদ্ধতিতে হত্যার দায়িত্ব কেন প্রধানমন্ত্রী নেবেন? আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর খুন-নির্যাতনের নিরপেক্ষ তদন্ত হতেই হবে।
পাইকারিভাবে হত্যাকাণ্ড চালাতে দিয়ে পুলিশ বাহিনীকে ঘাতকে পরিণত করার ফল শুভ হবে না। আইনে আস্থা নষ্ট করার ফল বুমেরাং হতে বাধ্য।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন