প্রথম আলোর প্রতিবেদন জানাচ্ছে, বসতবাড়িভিত্তিক কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধ, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও পরিবারের খাদ্যচাহিদা পূরণ করার জন্য উপজেলার ২৬টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের এখন সবজি চাষের ওপর ১৫ দিন পরপর ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠে সবজির বাগান তৈরি করে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি সংস্থা ইএসডিও জানো প্রকল্পের সহযোগিতায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় ২০১৮ সাল থেকে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের শেখানো পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা বাড়ির উঠান ও পতিত জায়গায় সবজির চাষ করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী সবজি চাষ করছে, মা-বাবাসহ পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এর সঙ্গে যুক্ত করেছে। উৎপাদিত সবজি শুধু বাড়ির প্রয়োজনেই কাজে আসছে না, সবজি বিক্রির টাকা দিয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের কাপড়, বই-খাতা-কলমও কিনছে। এর বাইরে পরিবারের ভাগ্যেও পরিবর্তন আসছে। অনেক অভিভাবকের বক্তব্য, ছেলেমেয়ের পড়াশোনার খরচ এখন আর দিতে হয় না। উল্টো সবজি বেচার টাকা দিয়ে অনেকে হাঁস-মুরগি ও ছাগল-বাছুর কিনে আরও বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে। কৃষির প্রতি শিক্ষার্থীদের এমন আগ্রহ সমাজের অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করছে। স্থানীয় কৃষকেরাও এখন তাদের সবজি চাষের পদ্ধতি অনুকরণ করেন।

বাল্যবিবাহ ও শিশুশ্রম রোধের নানা উপায় নিয়ে আমরা আলোচনা দেখতে পাই। সেদিক দিয়ে ইএসডিও জানো প্রকল্পটি অবশ্যই বাস্তবসম্মত ও অধিক কার্যকর। গোটা প্রকল্প জেলা-উপজেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেওয়া হোক। অন্যান্য বেসরকারি সংস্থা চাইলে দেশের সর্বত্র এমন উদ্যোগ নিতে পারে। সরকারও চাইলে শিক্ষা ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এমন একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। আমরা জানো প্রকল্পের এমন অনুসরণীয় উদ্যোগের জন্য তাদের অভিনন্দন জানাই।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন