default-image

গতকাল জাতীয় গ্রন্থাগার দিবসে প্রথম আলোয় দেশের গ্রন্থাগারগুলোর অবস্থা সম্পর্কে একটি সচিত্র প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলমান করোনা মহামারির মধ্যও রাজধানীর দনিয়া পাঠাগারে কয়েকজন নারী ও পুরুষ বই পড়ছেন। তাঁদের অধিকাংশের মুখেই মাস্ক ছিল। মহামারির কারণে গত মার্চ মাস থেকে সরকারি–বেসরকারি সব গ্রন্থাগার বন্ধ ছিল। ছয় মাস পর সেপ্টেম্বর থেকে বেসরকারি গ্রন্থাগারগুলো খুলতে শুরু করে, গত বুধবার খুলে দেওয়া হয় সরকারি গ্রন্থাগারগুলো। যাঁরা গ্রন্থাগারে গিয়ে বইপত্র পড়েন এবং বই ধার নেন, তাঁদের জন্য এটা কত আনন্দের বিষয়, তা শুধু তাঁরাই উপলব্ধি করবেন।

সাধারণভাবে ধারণা করা হয়, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে বই পড়ার অভ্যাস কমে গেছে এবং আরও কমে যাচ্ছে। এ রকম ধারণা সম্ভবত অনেকাংশে সত্য; কিন্তু তা সত্ত্বেও গ্রন্থাগারগামী মানুষের সংখ্যা কম নয়। আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর আকার বিশাল, তাদের বৃহত্তর অংশ মধ্যবিত্ত শ্রেণির, তাদের মধ্যে বই কেনার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে বই সংগ্রহ করা, পারিবারিক পাঠাগার গড়ে তোলার ঘটনা তো এখন অতীত কালের বিষয়। মানুষ ‘বইবিমুখ’ হয়ে যাচ্ছে—এ রকম কথা প্রায়ই শোনা যায়। এগুলো উদ্বেগের বিষয়। কারণ, তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে সারা দুনিয়ায় যখন জ্ঞান ও বিদ্যাচর্চা বাড়ছে, তখন আমাদের বই পড়ার প্রবণতা কমে গেলে আমরা অন্যদের তুলনায় নিঃসন্দেহে পেছনে পড়ে যাব। একুশ শতকের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলার জন্য আমাদের বই পড়ার অভ্যাস বরং বাড়াতে হবে। বইয়ের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট করতে হবে কিশোর–তরুণদের, যারা ডিজিটাল যন্ত্রের পেছনেই বেশি সময় ব্যয় করে। সুতরাং তাদের বইমুখী করার উদ্যোগ জোরালো করা প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

সেটা সম্ভব দেশের গ্রন্থাগারগুলোর উন্নয়ন সাধনের মধ্য দিয়ে। সারা দেশে মোট ৭১টি সরকারি গ্রন্থাগার আছে; এগুলো সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীন গ্রন্থাগার অধিদপ্তরের দ্বারা পরিচালিত হয়। এ ছাড়া নিবন্ধিত বেসরকারি গ্রন্থাগারের সংখ্যা প্রায় ৮০০। সরকারি–বেসরকারি উভয় ধরনের গ্রন্থাগারের উন্নয়ন সাধনের জন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত। গ্রন্থাগারগুলোর জন্য যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়, তা পর্যাপ্ত নয়। বরাদ্দ অবশ্যই বাড়ানো উচিত। একই সঙ্গে নিশ্চিত করা প্রয়োজন সরকারের বরাদ্দ অর্থের যেন সদ্ব্যবহার করা হয়। গুণগত মানসম্পন্ন বই কেনা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এ দেশে প্রচুর নিম্নমানের বই প্রকাশিত হয় শুধু গ্রন্থাগারগুলোতে বিক্রি করার জন্যই।

মানুষকে বইমুখী ও গ্রন্থাগারমুখী করার জন্য গ্রন্থাগারকেন্দ্রিক আলোচনা অনুষ্ঠান, পাঠচক্র ইত্যাদির আয়োজনও বাড়ানো দরকার।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন