শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। ফলে নিয়োগ–বাণিজ্যের সঙ্গে সিন্ডিকেটের কোনো কোনো সদস্যের যুক্ত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

এখন সেই সিন্ডিকেটের সদস্যদের দিয়ে শিক্ষক নিয়োগ–বাণিজ্যের ঘটনার তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। সেই তদন্তের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও শাস্তি কার্যকরেও রাখা হয়েছে তাঁদের। ফলে এই তদন্ত ও শাস্তির সুপারিশ কতটা সুষ্ঠুভাবে হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয় যখন একই অপরাধে দুজনের দুই রকম শাস্তি হয়। বিষয়টিকে বৈষম্যমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও আইন অনুষদের অধ্যাপক জাকির হোসেন। তিনি বলেন, মিছবাহুল নিয়োগ নিয়ে ফোনে ষড়যন্ত্র করেছেন। পাশাপাশি তিনি উপাচার্যের নামও ফোনালাপে জড়িয়েছেন। উপাচার্য জড়িত না থাকলেও ওই কর্মকর্তা মিথ্যা বলেছেন।

ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় উপাচার্যকে নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্ক ওঠে। কারণ, সেসব ফোনালাপে তাঁর নাম উচ্চারিত হয়। এ সত্ত্বেও ব্যক্তিগত সহকারীর বিরুদ্ধে কঠোর কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যেই আলোচনায় উঠেছে যে ব্যক্তিগত সহকারীর পক্ষে তো শিক্ষক নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। নিশ্চয়ই এ কাজে আরও ওপরের কেউ যুক্ত আছেন। এখন মিছবাহুলকে লঘু শাস্তি দিয়ে তাঁদেরও বাঁচানোর চেষ্টা করা হচ্ছে না তো? যদি তেমনটিই করা হয়, তাহলে পুরো বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং এ ব্যাপারে আচার্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন