দেশের অবস্থা যেমনই হোক, ছাত্রলীগ আছে ছাত্রলীগেরই মতো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তর্দলীয় কোন্দলে লিপ্ত হয়ে তারা আহত করেছে চারজনকে। তাদের গুলিবাজি, লাঠালাঠি, রামদার ঝনঝনানিতে গত রোববার চবি ক্যাম্পাস হয়ে উঠেছিল যুদ্ধক্ষেত্র। স্বয়ং উপাচার্যের অভিযোগ, শিক্ষকদেরও ধাওয়া করা হয়েছে। মাসের পর মাস চবিতে ছাত্রলীগের মগের মুলুক চলবে, পুলিশ থামাতে পারবে না! এমনকি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও উপেক্ষিত হবে! ছাত্রলীগ কি সবকিছুর ঊর্ধ্বে?
ক্ষমতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে ছাত্রলীগ প্রায় সবখানেই অন্যায়-অনিয়ম ও সন্ত্রাস করে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে খুন হন দুজন, যাঁদের একজন স্বদলীয়। ছাত্রলীগের দুটি গ্রুপের সংঘাতে ক্যাম্পাস অচল থাকে মাসের পর মাস। উপাচার্য বারবারই অবরুদ্ধ হন। রক্তারক্তি ও গোলাগুলি চরমে ওঠায় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে দুই পক্ষের সমঝোতা হয়। কিন্তু সেই সমঝোতার এক মাসের মাথায় গত বছরের ডিসেম্বরে খুন হন আরও একজন।
গুলির শব্দে ঘুম ভাঙলএত ঘটনা ঘটে, মামলা হলেও বিচারে গতি আসে না। প্রশাসনও এদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অক্ষম। ফলে ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার হানাহানি বেড়েই চলেছে। একই অবস্থা চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগেও। গত বছরের আগস্টে ঢাকায় জাতীয় শোক দিবসে আসা নিয়ে সংঘাতে নিহত হন তাঁদের একজন।
দেশে গভীর রাজনৈতিক সংকট চলছে। বিরোধী দলের ডাকা হরতাল-অবরোধের সহিংসতায় প্রতিদিন ঝরে যাচ্ছে নিরীহ মানুষের প্রাণ। এর মধ্যে ছাত্রলীগের হানাহানি যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। দেশময় অশান্তির মধ্যে যারা এভাবে অন্তর্দলীয় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তাদের রাজনৈতিক দায়িত্ববোধ কিছু আছে বলে মনে হয় না।
দেশে যদি আইন থাকে, যদি আইনের লঙ্ঘন শাস্তিযোগ্য অপরাধ হয়, তবে সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সংঘাতের অন্য কলাকুশলীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের এই দানব আর ছাড় পেতে পারে না।

বিজ্ঞাপন
সম্পাদকীয় থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন